চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে থানার ভেতর থেকে ফেসবুক লাইভে এসে এক ছাত্রলীগ কর্মী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
বুধবার (২০ অক্টোবর) বিকেলের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
রাসেল নামের ওই ছাত্রলীগ কর্মীর দাবি, সংঘর্ষে দুইজন নিহতের ঘটনায় আটক বাবাকে নির্দোষ দাবি করে থানায় ঢুকে বিষ খেয়েছেন।
রাসেল থানায় যাওয়ার আগে অটোরিকশায় বসে ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, “আমার বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নের মুনছুরিয়া বাজারে। এর আগেও তিনবার আমাকে পুলিশের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। আমার বাবা নিরপরাধ একজন মানুষ। থানার ওসি, এসআই এবং স্থানীয় শুক্কুর নামের একজন তাকে ও তার বাবাকে সংঘর্ষের ঘটনায় ফাঁসিয়েছেন। আমিও কোনো অপরাধ করিনি।”
ওই ছাত্রলীগ কর্মী আরও বলেন, “শুক্কুরের পরামর্শে তার বাবাকে আটক করা হয়েছে। এসআই হাবিব সাহেবের উচিত ছিল ঘটনাস্থলে গিয়ে সব তথ্য-প্রমাণ নেওয়া, কে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল আর কে ছিল না।”
ওসি কামাল সাহেবের সঙ্গে কালা শুক্কুরের খুব ভালো সম্পর্ক উল্লেখ করে রাসেল বলেন, “শুক্কুর বলছে, সে জন্য আমার বাবাকে ধরে নিয়ে আসছে। এখন আমাকেও নাকি পুলিশ খুঁজতেছে। এখন আমি ছাত্রলীগের একজন কর্মী হয়ে আমার যদি এই অবস্থা হয়, আমার পরিবারের যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে ভালো থাকবে বলেন?”
একপর্যায়ে লাইভে রাসেল থানায় গিয়ে আত্মহত্যা করবেন বলে জানান।
রাসেলকে লাইভে থাকতেই থানায় ঢুকতে দেখা যায়। তখন কিছু লোকের কথাও শোনা যায়। এরপরই লাইভ শেষ হয়। বিষয়টি জানতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিনকে পাওয়া যায়নি।
এসআই হাবিবুর রহমান বলেন, “যাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে তাদের তো আসলে আমি চিনি না কে কার বাবা।” নিহতের ঘটনায় দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল হক।
জানা যায়, বুধবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে বাঁশখালী মনছুরিয়া বাজারে পানিনিষ্কাশনের পাইপ বসানো নিয়ে দুই পরিবারের সংঘর্ষে দুজন নিহত হন। এই ঘটনায় আহত হন তিনজন। নিহতরা হলেন আব্দুল খালেক ও সোলতান মাহমুদ টিপু। তারা সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক সঞ্জয় কুমার বলেন, “রাসেল নামের এক যুবককে বিষপানরত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
