রোনালদোর লক্ষ্য এবার অধরা ট্রফি

সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬, ১০:৪১ এএম

বয়সটা ৪১ ছুঁইছুঁই, কিন্তু ফুটবল মাঠের চিরসবুজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শরীরী ভাষা কিংবা আত্মবিশ্বাসে তার বিন্দুমাত্র ছাপ নেই। ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে উত্তর আমেরিকায় পা রাখার আগে সিআরসেভেন জানিয়ে দিলেন, তিনি পুরোপুরি ফিট এবং পর্তুগালকে অধরা সোনালি ট্রফি এনে দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে চিলি এবং নাইজেরিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচেই পর্তুগালের মূল একাদশে খেলেছেন রোনালদো। চোট বা ফিটনেস নিয়ে গণমাধ্যমের নানা গুঞ্জনকে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে উড়িয়ে দিয়ে পর্তুগিজ অধিনায়ক বলেন, 'শারীরিক অবস্থা? আমি একদম ঠিক আছি। আপনারা কি ইদানিং আমার খেলা দেখেননি?'

আগামী ১৭ জুন কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে লুইস ফিগোর উত্তরসূরিরা। তার আগে দলের এই অদম্য মানসিকতা পর্তুগিজ শিবিরে জোগাচ্ছে বাড়তি অনুপ্রেরণা।

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি দারুণ হলেও তা বেশ ক্লান্তিকর ছিল বলে জানান রোনালদো। কঠোর অনুশীলনের পর এবার আসল লড়াইয়ের অপেক্ষা। পর্তুগাল অধিনায়ক বলেন, 'প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে আমরা আধিপত্য দেখিয়েছি, তবে আসল পরীক্ষা শুরু হবে ১৭ তারিখ থেকে। যখন বল মাঠে গড়াবে এবং আসল মানসিক চাপ তৈরি হবে, তখনই বোঝা যাবে কারা আসল চ্যাম্পিয়ন।'

আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে ২২৭ ম্যাচে রেকর্ড ১৪৩ গোল করা এই গোলমেশিন ভালো করেই জানেন, তাঁর শোকেসে সব ট্রফি থাকলেও বিশ্বকাপের এই একটি ট্রফিই কেবল অধরা রয়ে গেছে। আর বয়স বিবেচনায় এটাই যে তার শেষ সুযোগ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়াই এখন পর্যন্ত বিশ্বমঞ্চে পর্তুগালের সেরা সাফল্য।

এবারের পর্তুগাল স্কোয়াডকে বলা হচ্ছে ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী দল। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে নেতৃত্ব দেওয়া ব্রুনো ফার্নান্দেস আছেন ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে। সেই সাথে ফরাসি ক্লাব পিএসজির হয়ে লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা নুনো মেন্দেস, জোয়াও নেভেস, ভিতিনহা এবং গনসালো রামোসের মতো তরুণ তুর্কিরা এবার রোনালদোর শক্তির মূল উৎস।

গ্রুপ ‘কে’-তে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ কঙ্গো, উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া। তবে এখনই ফাইনাল বা ট্রফি নিয়ে বড় কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করতে রাজি নন এই কিংবদন্তি। রোনালদো বলেন, 'আমাদের খুব ভালো একটা প্রজন্ম আছে, তবে মাঠে এমন অনেক কিছু ঘটে যা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। মূল চাবিকাঠি হলো টুর্নামেন্টটা ভালোভাবে শুরু করা এবং গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া। এরপর আমাদের ধাপে ধাপে, শান্ত মাথায় আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।'

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবল বিশ্বকে শাসন করা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে সম্ভাব্য সব শিরোপাই জিতেছেন। এবার বিশ্বমঞ্চে নিজের শেষ অধ্যায়টি পর্তুগালের ইতিহাসের সেরা সোনালি রঙে রাঙাতে চান ফুটবলের এই মহানায়ক।