নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬৪ মিনিটে ক্রস থেকে হেড করে গোলের পর বন্দুক চালানোর মতো সেলিব্রেশন করেন ইরানি মিডফিল্ডার মুহম্মদ মোহেবি।
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই একের পর এক বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল ইরান। একদিকে যেমন ইরানের জন্য বিশেষ নীতি দেখিয়েছিল আমেরিকা, তেমনই বিশ্বকাপে প্রথমে খেলবে না বলেও পরে আবার খেলতে আসে ইরান দল।
তবে এবার ইরানের প্রথম ম্যাচ ঘিরেই বিতর্ক চরমে। আজ সকাল ৭টায় ইরানের ম্যাচ ছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। সেই ম্যাচ ড্র হয়েছে ২-২ গোলে। তবে ম্যাচের চেয়েও বেশি বিতর্ক হচ্ছে ইরানের মিডফিল্ডার মুহম্মদ মোহেবিকে নিয়ে।
ইরানের দ্বিতীয় গোল করে বিতর্কিত সেলিব্রেশন করেছেন মোহেবি। একই সঙ্গে এই ম্যাচে খেলতে নামার আগে নিজেদের দেশবাসীদের থেকেই বিক্ষোভের মুখে পড়েন ইরানের খেলোয়াড়রা। সব মিলিয়ে ইরানের প্রথম ম্যাচেই সঙ্গী হলো বিতর্ক।
মোহেবিকে নিয়ে কী ঘটেছে?
ম্যাচের ৬৪ মিনিটে ক্রস থেকে হেড করে গোল দেন তিনি। তারপরেই হাত দিয়ে (গান ফায়ারিং সেলিব্রেশন) বন্দুক চালানোর মতো সেলিব্রেশন করেন। এই হাত দিয়ে বন্দুক চালানোর মতো সেলিব্রেশন আগে দেখেছে ফুটবল বিশ্ব। তবে যেহেতু আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ চলছে, তাই তাঁর এই সেলিব্রেশন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তাঁর শাস্তির দাবি করা হচ্ছে।
এমনকি ইরানের আগামী ম্যাচগুলোতে যেন না খেলতে পারেন মোহেবি, সেই নিয়েও কথা বলছেন অনেকে।
যদিওম্যাচ নিয়ে হামলার আশঙ্কা ছিলই। সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো অবশেষে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের বেশ কিছু ঘণ্টা আগে থেকেই ইরানের হোটেলের সামনে বিক্ষোভ দেখানো শুরু হয়। আমেরিকার প্রবাসী ইরানিদের দেখানো এই বিক্ষোভে বলা হয়েছে, ইরানের ফুটবলাররা আসল ইরানি নয়। তাঁরা আসলে ‘জঙ্গি’। ইরানের বর্তমান শাসকদের অধীনে খেলতে আসা এই ফুটবলাররা ইরানকে প্রতিনিধিত্ব করতে আসেননি, বলছেন বিক্ষোভকারীরা।
এদের মধ্যে অনেক সমর্থকই স্টেডিয়ামের বাইরেও বিক্ষোভ দেখান। বেশ কিছু লোক ইরানের পুরনো পতাকা নিয়েও বিক্ষোভ করেন। যদিও স্টেডিয়ামে কড়া নিরাপত্তা থাকার ফলে খুব একটা অসুবিধা হয়নি এবং ম্যাচেও এর কোনো প্রভাব পড়েনি।