সৌদির বিপক্ষে হার এড়াল উরুগুয়ে

সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২৬, ০৮:৪০ এএম

ম্যাচে কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করেছেন সৌদি গোলরক্ষক আল-ওয়াইস।
দারুণ এক আক্রমণে চমকে দিয়েছিল সৌদি আরব। সেই ধাক্কা সামলে নিতে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝড় তুলেছিল উরুগুয়ে।


অনেক সুযোগ হারানোর পর তারা পেল কাঙ্ক্ষিত গোল। তাতে হার এড়াতে পারল দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে আজ ভোরে ‘এইচ’ গ্রুপের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। আল আমরির গোলে সৌদি এগিয়ে যাওয়ার পর শেষ দিকে সমতা আনেন উরুগুয়ের মাক্সি আরাউহো।


দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় পুরোটা সময় একরকম নিজেদের অর্ধে কোণঠাসা হয়েই থেকেছে সৌদি আরব। মরিয়া উরুগুয়ে এই অর্ধেই ২০টি বেশি শট নিয়েছে। আক্রমণের ঝড় তুলেও মধ্যপ্রচ্যের দলটির প্রতিরোধের দেয়ালে একবারই চিড় ধরাতে পেরেছে তারা।

অসাধারণ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন সৌদি আরবের গোলরক্ষক মোহামেদ আল-ওয়াইস।


দুর্দান্ত কিছু সেভ করেছেন তিনি।
গত বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অঘটনগুলোর একটির জন্ম দিয়েছিল সৌদি আরব। আরেকটি স্মরণীয় জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত পারল না তারা।

পুরো ম্যাচে ৬৫ শতাংশের বেশি সময় বলের দখল রেখে গোলের জন্য ২৮টি শট নিয়ে ১০টি লক্ষ্যে রাখতে পারে উরুগুয়ে। সৌদির সাত শটের তিনটি লক্ষ্যে ছিল।


প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ভালো একটা সুযোগ তৈরি করে উরুগুয়ে। মাক্সি আরাউহোর শট সোজাসুজি ছিল। কিন্তু গতির কারণে কেবল পাঞ্চ করে বাইরে পাঠাতে পারেন গোলরক্ষক।

ওই আত্মবিশ্বাসী শুরুর পরের আধা ঘণ্টা একটানা চাপ ধরে রাখে উরুগুয়ে। যদিও এই সময়ে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের আর তেমন কোনো পরীক্ষা নিতে পারেনি তারা।

এরপর একরকম হঠাৎ করেই পাল্টা আক্রমণ শুরু করে সৌদি আরব। টানা কয়েক মিনিট প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে তারা। পেয়ে যায় সাফল্যও।

৩৮ মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পায় সৌদি আরব। আল আমরির জোরাল শটটি দৃঢ়তায় রুখে দেন মুসলেরা। তিন মিনিট পর দলকে আর বাঁচাতে পারেননি অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক।

সেট পিসে ডি-বক্সে থেকে জোরাল হেড করেন হাসান আল তামবাক্তি। কোনোমতে সেটা আটকালেও বল হাতে রাখতে পারেননি মুসলেরা। দ্রুত গোলমুখে গিয়ে আলগা বল টোকায় জালে পাঠান আল নাসর ডিফেন্ডার আল আমরি।

বিরতির পর গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে উরুগুয়ে। একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে তারা। কিন্তু ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলতে পারছিল না দলটি।

৬০ মিনিটে অসাধারণ এক সেভ করেন সৌদি গোলরক্ষক আল-ওয়াইস। দূর থেকে শট নেন মানুয়েল উগার্তে, ঝাঁপিয়ে কোনোমতে বলে হাত ছোঁয়ান গোলরক্ষক, পোস্টে লেগে ফিরে আসে বল।

অনেক প্রচেষ্টা বিফলে যাওয়ার পর ৮০ মিনিটে গোলের দেখা পায় উরুগুয়ে। ফেদেরিকো ভিনাসের হেড গোলরক্ষক আটকালেও দলকে পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি। বল চলে যায় ডি-বক্সে বাঁ দিকে মাক্সি আরাউহোর পায়ে। দুরূহ কোণ থেকে জোরাল শটে দূরের পোস্ট দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন এই লেফট ব্যাক।

আরেকটি গোলের জন্য এরপরও টানা আক্রমণ শাণাতে থাকে উরুগুয়ে। সুযোগও তৈরি হয় নিয়মিত। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ফেদেরিকো ভালভের্দের শটটাও দারুণ নৈপুণ্যে ঠেকিয়ে দলের ১ পয়েন্ট নিশ্চিত করেন আল-ওয়াইস।