৭৩৭৯ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা

জাপানের সঙ্গে ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি সই করল বাংলাদেশ

সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে । গতকাল শুক্রবার জাপানের রাজধানী টোকিওতে অনুষ্ঠিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে এ চুক্তি সই করা হয় । প্রথমবারের মতো কোনো দেশের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করল বাংলাদেশ ।

 

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইয়াও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন । অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী এবং ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচিসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

চুক্তি অনুযায়ী, তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের ৭,৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে । বিপরীতে জাপান বাংলাদেশের বাজারে ১,০৩৯টি পণ্যে শুল্কমুক্ত বা অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে । পর্যায়ক্রমে ৬ থেকে ৮ বছরের মধ্যে আরও ২,৭০২টি জাপানি পণ্য শুল্ক ছাড়ের আওতায় আসবে ।

পোশাক খাতে 'সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন' সুবিধা যুক্ত হওয়ায় কাঁচামাল সংক্রান্ত কোনো জটিলতা ছাড়াই বাংলাদেশি পোশাক জাপানে রপ্তানি করা যাবে । তবে জাপানের গাড়ি এই চুক্তির আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে না, যা স্থানীয়ভাবে গাড়ি উৎপাদনে জাপানি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

 

চুক্তি অনুযায়ী জাপানের তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, শিক্ষা, কেয়ারগিভিং এবং নার্সিংয়ের মতো প্রায় ১৬টি বিভাগের ১২০টি সেবা খাতে বাংলাদেশি দক্ষ পেশাজীবীদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে । বাংলাদেশও জাপানের জন্য ১২টি বিভাগের আওতায় ৯৭টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে ।

 

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন অনুষ্ঠানে বলেন, চুক্তিটি দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন এবং এটি শুধুমাত্র বাণিজ্যিক দলিল নয়, বরং বাংলাদেশের উজ্জ্বল অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ও গভীর পারস্পরিক আস্থার প্রকাশ । দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশের উৎপাদন, অবকাঠামো, জ্বালানি ও লজিস্টিকস খাতে জাপানের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে এশিয়ায় জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য, যেখানে বছরে প্রায় ২০০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়, যার অধিকাংশই তৈরি পোশাক । এলডিসি উত্তরণের পর জাপানের বাজারে শুল্ক সুবিধা ধরে রাখতে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ।