সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই যুগে রাতারাতি তারকা হয়ে যাওয়ার ঘটনা এখন আর নতুন কিছু নয়। টিকটক, ফেসবুক রিলস, ইউটিউব শর্টস কিংবা স্পটিফাইয়ের অ্যালগরিদমের কল্যাণে একটি গান কয়েক দিনের মধ্যেই কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো একটি গান ভাইরাল হলেই কি একজন শিল্পীর দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার নিশ্চিত হয়ে যায়?
বাস্তবতা বলছে, উত্তর হলো ‘না’।
সংগীতাঙ্গনের ইতিহাসে এমন অসংখ্য উদাহরণ আছে, যেখানে একটি গান শিল্পীকে রাতারাতি পরিচিতি দিয়েছে, কিন্তু কয়েক মাস বা কয়েক বছরের মধ্যেই সেই শিল্পীর নাম শ্রোতাদের স্মৃতি থেকে মুছে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি গান ভাইরাল হওয়া মানেই শিল্পীর প্রতিষ্ঠা নয়। অনেক সময় গানটি জনপ্রিয় হয় একটি নির্দিষ্ট লাইন, নাচের স্টেপ, মিম বা ট্রেন্ডের কারণে। শ্রোতারা গানটি মনে রাখলেও শিল্পীকে মনে রাখেন না।
ফলে ট্রেন্ড শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রিয়তাও হারিয়ে যায়।
আগে একটি শিল্পীর জনপ্রিয়তা তৈরি হতো অ্যালবাম, কনসার্ট, টেলিভিশন অনুষ্ঠান এবং দীর্ঘ সময়ের শ্রোতা-সম্পর্কের মাধ্যমে। এখন অনেক ক্ষেত্রেই জনপ্রিয়তা নির্ভর করে অ্যালগরিদমের ওপর।
একটি গান যদি হঠাৎ লাখ লাখ মানুষের ফিডে চলে আসে, সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। কিন্তু পরের গানটি যদি একই অ্যালগরিদমিক সুবিধা না পায়, তাহলে সেই শিল্পীও আলোচনার বাইরে চলে যেতে পারেন।
অনেক শিল্পী প্রথম গানেই বিশাল সাফল্য পান। কিন্তু এরপর শুরু হয় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
শ্রোতারা নতুন গানেও আগের মতো সাফল্য আশা করেন। প্রত্যাশার এই চাপ অনেক সময় শিল্পীদের জন্য সমস্যা তৈরি করে। দ্বিতীয় বা তৃতীয় গান আগের সাফল্য ছুঁতে না পারলে দ্রুতই আগ্রহ কমে যায়।
দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ারের জন্য শুধু গান নয়, শিল্পীর নিজস্ব পরিচয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু শিল্পী এমন একটি ব্র্যান্ড তৈরি করতে পারেন, যেখানে শ্রোতারা শিল্পীকে অনুসরণ করেন। অন্যদিকে অনেক ভাইরাল শিল্পীর ক্ষেত্রে শ্রোতারা শুধু একটি গানকেই চেনেন।
ফলে গানটি হারিয়ে গেলে শিল্পীও হারিয়ে যান।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হওয়া আর সরাসরি মঞ্চে দর্শক ধরে রাখা এক বিষয় নয়।
অনেক ভাইরাল শিল্পী লাইভ পারফরম্যান্সে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেন না। আবার অনেকে স্টেজে দুর্দান্ত হলেও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে পিছিয়ে থাকেন।
দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ারের জন্য এই দুইয়ের সমন্বয় প্রয়োজন।
সংগীত জগতে শুধু প্রতিভা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, কনটেন্ট স্ট্র্যাটেজি, পেশাদার ব্যবস্থাপনা এবং ধারাবাহিক কাজ।
অনেক শিল্পী ভাইরাল হওয়ার পরও পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে না পারায় সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন না।
সাধারণত তারাই দীর্ঘ সময় টিকে থাকেন যারা
ভাইরাল হওয়া আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সহজ। কিন্তু সংগীতাঙ্গনে দীর্ঘদিন টিকে থাকা এখনো কঠিন।
একটি গান শিল্পীকে পরিচিতি দিতে পারে, কিন্তু একটি ক্যারিয়ার তৈরি করে ধারাবাহিকতা, পরিশ্রম, পরিকল্পনা এবং শ্রোতাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক।
সেজন্যই সংগীত জগতে প্রায়ই শোনা যায় একটি কথা
“একটি গান আপনাকে বিখ্যাত করতে পারে, কিন্তু একাধিক ভালো গানই আপনাকে শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।