যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন

ক্ষমতার পালাবদল ও অর্থনীতির সমীকরণ

সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে ভোটাররা কংগ্রেসের ৪৩৫টি প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) আসন, সেনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৩টি আসন এবং রাজ্য গভর্নরসহ স্থানীয় কর্মকর্তাদের নির্বাচিত করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেস নির্বাচন সম্পূর্ণ আলাদা হওয়ায়, কংগ্রেসে ট্রাম্পের দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও তিনি ক্ষমতাচ্যুত হবেন না। তবে এই নির্বাচন তার নীতি বাস্তবায়ন, বাজেট অনুমোদন এবং আইন পাসের ক্ষমতার ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।


ঐতিহাসিকভাবে মধ্যবর্তী নির্বাচন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের কাজের ওপর এক ধরনের পরীক্ষা। ধারণা করা হচ্ছে, এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে পারে, যদিও সেনেটে রিপাবলিকানদের আধিপত্য ধরে রাখার সম্ভাবনা প্রবল।

কংগ্রেস যদি বিভক্ত হয় (অর্থাৎ দুটি কক্ষ দুই দলের নিয়ন্ত্রণে থাকে), তবে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে নতুন করে সরকারি খরচ বাড়ানো বা কর কমানোর মতো আইন পাস করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ছাড়া কোনো বাজেট বা আর্থিক প্যাকেজ অনুমোদন করা সম্ভব হবে না। ফলে কর্পোরেট কর কমানো বা প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর মতো ট্রাম্পের প্রস্তাবগুলো তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়বে।

কংগ্রেসে আইন পাসের পথ রুদ্ধ হলে ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি নির্বাহী আদেশ (এক্সিকিউটিভ অর্ডার) ব্যবহারের দিকে বেশি ঝুঁকতে পারে। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই প্রেসিডেন্ট বাণিজ্য, শুল্ক আরোপ এবং পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

বিদেশ থেকে আসা পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানো, ব্যবসার নিয়মকানুন কঠোর করা এবং শত্রু দেশের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার মতো ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে রয়েছে। অভিবাসনের ক্ষেত্রেও নিয়মকানুন কঠোর থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের শ্রমবাজারে নতুন শ্রমিকের প্রবেশ সীমিত করতে পারে।

কংগ্রেসে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং নীতি নির্ধারণে অনিশ্চয়তার কারণে শেয়ার বাজার ও বন্ড মার্কেট সাময়িকভাবে অস্থির হয়ে উঠতে পারে। কর নীতিতে বারবার পরিবর্তন বা ঋণের সীমা (ডেবট সিলিং) নিয়ে অচলাবস্থা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে শঙ্কা তৈরি করে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচন রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ালেও দীর্ঘমেয়াদে শেয়ার বাজার ও অর্থনীতির গতিপথ মূলত দেশের মৌলিক অর্থনৈতিক অবস্থার ওপরই নির্ভর করবে। রাজনৈতিক পালাবদলের চেয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি এবং কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর মুনাফাই শেষ পর্যন্ত অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।