যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের শর্ত মেনে নিলে দুই দিনের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করছে ইরান। নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে এ আলোচনা চলছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আলজাজিরাকে বলেছেন, প্রস্তাবটি প্রথমে সাত দিনের মধ্যে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল। তবে কাতারের সঙ্গে আলোচনার পর সময় কমিয়ে দুই দিন করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। দ্বিতীয় দিন থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।
ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, অঞ্চলটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো, তেল রপ্তানির ছাড় পুনর্বহাল এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া। এ ছাড়া ইরান ও ওমানের সম্মতিতে নির্ধারিত নৌপথের স্বীকৃতিও চায় তেহরান।
এদিকে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজাই যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো সাম্প্রতিক চিঠিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখেছেন। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটনের বক্তব্যের ধরনে বড় পরিবর্তন এসেছে। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে তেহরান চিঠিটি পর্যালোচনা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রও কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের আগ্রহ দেখিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। প্রশাসন কূটনৈতিক পথে সংকট সমাধান করতে চায়। তবে প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতিও যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।
কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও উত্তেজনা কমেনি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সামরিক কমান্ডারদের যেকোনো সম্ভাব্য হুমকির দ্রুত ও কার্যকর জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে কোনো ভৌগোলিক সীমা না মানতেও বলেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের কাছ থেকে হুমকি এলে এ নির্দেশ কার্যকর হবে।
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত অন্তত ৩৫টি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধের অংশ হিসেবে তারা ১৪৪টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে।
কাতারের মধ্যস্থতায় দোহায় ইরানের প্রতিনিধিদের আলোচনা চলছে। নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়া ঠেকাতে আঞ্চলিক দেশগুলোও চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার আশা তৈরি হয়েছে দুই দিনের এই প্রস্তাব ঘিরে। তবে এর বাস্তবায়ন নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্তগুলো মেনে নেয় কি না, তার ওপর। এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা হয়নি।
সূত্র : আলজাজিরা