• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১, ১৫ শাওয়াল ১৪৪৫

‘সামর্থ্যের মধ্যে রয়েছে কেবল শাক ও পেঁপে’


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২, ০১:১২ পিএম
‘সামর্থ্যের মধ্যে রয়েছে কেবল শাক ও পেঁপে’

সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির ডিমের দাম ডজনে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে সবজির দাম। বাজারে ৬০ টাকা কেজির নিচে পেঁপে আর কাঁচকলা ছাড়া কোনো সবজিই মিলছে না। তবে সবজির সরবরাহ রয়েছে পর্যাপ্ত। বাড়তি দামে সবজি কিনতে হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ। বাজারে এসে অল্প পরিমাণে সবজি কিনে বাসায় ফিরছেন অনেকে।

বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ সবজির দামই বেড়েছে। কাঁচা মরিচের ঝাঁজ কমলেও কমেনি গাজর ও টমেটোর দাম। টমেটো ১৪০ টাকা ও গাজর বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। আর আলু বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। সবজির বাজারে ক্রেতাদের মুখে অসন্তোষ স্পষ্ট।

বিক্রেতারা বলছেন, সবজির দাম বাড়ার স্পষ্ট কারণ তাদের জানা নেই। অধিকাংশ সবজির দামই গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। কিন্তু কিছু দিন আগেও বৃষ্টির কারণে সবজির দাম অনেকটাই চড়া হয়েছিল, যার প্রভাব এখনো রয়েছে বাজারে।

সবজি বিক্রেতা তাপস চন্দ্র সংবাদ প্রকাশকে বলেন, “বেগুন গত সপ্তাহে কিনেছি ৬৫ টাকায়। আজ তা কিনতে হয়েছে ৭৫ টাকায়। বিক্রি তো ৮০ টাকার নিচে করা যাচ্ছে না। গোল বেগুন ৯০, লম্বা বেগুন ৮০ টাকায় বেচতে হচ্ছে।”

গত সপ্তাহেও ঢেঁড়স ছিল ৫০ টাকা, আজ তা ৬০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। কাঁকরোলে কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। গত সপ্তাহেও যা ছিল ৫০ টাকা, আজ ৭০, শসা ৬০ টাকা কেজি।  

বাজার ঘুরে দেখা যায়, লাউ ৫০ থেকে ৬০, কচুর লতি ৬০ টাকা, ১০ টাকা বাড়তিতে করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকা। ৫০০ গ্রাম ওজনের ছোট পাতা কপির পিস ৫০ টাকা, ঝিঙা ৭০, চিচিঙ্গা ৭০, পটোল ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। কাঁচা কলার হালি ৪০ টাকা। এসব সবজি গত সপ্তাহে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে পাওয়া গেছে। তবে শুধু পেঁপেই মিলছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়।

মামুন নামের একজন ক্রেতা বলেন, “বাড়তে সময় লাগে না, কিন্তু বেড়ে গেলে যেন আর কমে না সবজির দাম। আমাদের মতো মধ্যবিত্তের ৬ সদস্যের পরিবারের জন্য সবজির জন্য খরচা বেড়ে গেছে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা।”

শাকের দামও বেড়েছে। পাটশাকের জোড়া আঁটি ২৫ টাকা, কলমিশাক  জোড়া আঁটি ২০ টাকা, কচুর শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, মুলার শাক দুই আঁটি ৩০ টাকা, লালশাকের জোড়া আঁটি ৩০ টাকা, পুঁইশাক ৪০ টাকা, শাপলা ডাঁটা ১৫ টাকা। আর ধনিয়ার পাতা ১০০ গ্রাম ৩০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। লেবুর হালি ১৫ থেকে ২০ টাকায় মিলছে। নিম্ন আয়ের মানুষের পছন্দের লাউয়ের দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকা। জালি কুমড়া ৪০ টাকা পিস

সবজি বিক্রেতা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “টমেটো ও গাজরের দাম শুনে অনেক ক্রেতা ফিরে যাচ্ছেন। যারা কিনছেন তারাও অল্প করে কিনছেন। গাজর ও টমেটো বাজারে নেই। হাইব্রিড দুই সবজি আমদানি করায় খরচা বেশি।”

বাজার করতে আসা জাকির মিয়া বলছেন, সামর্থ্যের মধ্যে রয়েছে কেবল কিছু শাক ও পেঁপে, মিষ্টিকুমড়া আর মরিচ। লাউয়ের দামও বাড়তি। আলুও ৩৫ টাকা। বাকি সবই ৬০ টাকার ওপরে। ২০০ টাকার সবজি কিনলে দুই দিন যায় না। ফিরতে হয় ফের সবজির বাজারে।

সবজি বিক্রেতা নূর হোসেন বলেন, “সবজির বাজারে কোনো সরকারি মনিটরিং নেই। যে যেমন পারছেন, দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। আমরা খুচরা বেচি। পাইকারিতেই যদি বাড়তি দাম কিনতে হয় তাহলে তো লোকসান করে খুচরায় সবজি বিক্রি করা যায় না।”

Link copied!