অনুপ্রবেশকারীদের রাখতে সব জেলায় আটক কেন্দ্র : পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২৬, ১১:০২ পিএম
অনুপ্রবেশকারীদের রাখতে সব জেলায় আটক কেন্দ্র : পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার

অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে আটক বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গাদের সাময়িকভাবে রাখার জন্য সব জেলায় হোল্ডিং সেন্টার বা আটক কেন্দ্র তৈরির নির্দেশ দিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার।

রোববার (২৪ মে) রাজ্যের সচিবালয় ও প্রশাসনিক কেন্দ্র নবান্ন থেকে জেলাগুলোর প্রশাসনের কাছে পাঠানো এক নির্দেশিকার বরাত দিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ওই ‘হোল্ডিং সেন্টার-এ সন্দেহভাজনদের ৩০ দিন আটক রাখা যাবে।

অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে আটকরা ছাড়াও, যারা এর আগে ধরা পড়েছিলেন এবং বন্দি ছিলেন এবং যাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে, তাদেরও সেখানে রাখা যাবে বলে নির্দেশিকায় বলেছে রাজ্য সরকার।

রাজ্য সরকার এমন এক সময়ে এই ‘হোল্ডিং সেন্টার তৈরির নির্দেশ দিল, যখন পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় এসেই নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধী আইন (সিএএ) কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন। সিএএর বাইরে থাকা ব্যক্তিদের ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ ধরে নিয়ে তাদের ফেরত পাঠাতে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

এ নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশেই তুমুল আলোচনা তৈরি হয়েছে।

আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর নির্দেশিকা আগেই জারি করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি নবান্ন থেকে সাংবাদিকদের বলেন, “আগের সরকার কেন্দ্রের সেই নির্দেশ পালন করেনি। তার সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে ওই সংক্রান্ত আইন কার্যকর করা হয়েছে।

নবান্নের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, “বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গাদের যারা রাজ্যে বেআইনিভাবে বসবাস করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন, তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। জেলাগুলোতে তার জন্য হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা হবে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং এ রাজ্যের জেল থেকে ছাড়া পাওয়া বিদেশি বন্দিদের রাখার জন্য এ সমস্ত সেন্টার ব্যবহার করা হবে। সেন্টার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।”

রাজ্য পুলিশের ডিজি, প্রত্যেক জেলার জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারের কাছে এই নির্দেশিকা পৌঁছে গেছে। কলকাতা-সহ প্রত্যেক পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনারদেরও এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।

২০২৫ সালের ২ মে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফরেনার্স ডিভিশনের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে একটি আট পাতার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। তাতে অনুপ্রবেশকারীদের রাখার জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির কথাও বলা হয়েছিল।

ওই নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিক নন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে তাকে গ্রেপ্তার করা যাবে। ৩০ দিনের জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার-এ আটকে রাখা যাবে।

৩০ দিনের মধ্যে নথিপত্র খতিয়ে দেখে তিনি আদৌ ভারতীয় কি না, তা যাচাই করতে হবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক বা ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক।

আনন্দবাজার লিখেছে, অবৈধ অভিবাসীদের ক্ষেত্রে ‘ডিটেক্ট (চিহ্নিত করা), ডিলিট (মুছে দেওয়া) এবং ডিপোর্ট (ফেরত পাঠানো)’ নীতি নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কীভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, তা কেন্দ্রের নির্দেশিকায় বলা আছে। অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রতি রাজ্যে জেলা ধরে ধরে পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গঠন করতে বলেছে কেন্দ্র।

যারা ‘হোল্ডিং সেন্টার-এ অনুপ্রবেশকারী হিসাবে চিহ্নিত হবেন, তাদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করে কেন্দ্রের পোর্টালে আপলোড করতে হবে। তারপর তাদের তুলে দেওয়া হবে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে। এদের ভারতে ব্ল্যাকলিস্টেড করে দেওয়া হবে।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে তদন্ত শেষ হওয়ার পর অবৈধ অভিবাসীকে ‘হোল্ডিং সেন্টার থেকেই তুলে নিয়ে যেতে পারে সীমান্তরক্ষী বা উপকূলরক্ষী বাহিনী। সরাসরি তাদের দেশের সীমান্তের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

Link copied!