আর্জেন্টিনার ফুটবল প্রধানের ফোন জব্দ করে এফবিআই-এর তদন্তের গুঞ্জন, যা বলছে এএফএ

সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ১১:১৫ এএম

বিশ্বকাপ চলাকালেই আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার বিরুদ্ধে সন্দেহজনক অর্থ লেনদেনের অভিযোগে তদন্তের খবর প্রকাশ করেছিল স্প্যানিশ গণমাধ্যম ‘মার্কা’। সম্প্রতি আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম ‘ইনফোবে’ ও ‘ক্লারিন’ দাবি করে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই তাপিয়াসহ এএফএ-র কয়েকজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করেছে।


তবে এ ধরনের সমস্ত খবরকে গুঞ্জন ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম দুটির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়েছিল এফবিআই। সেখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চুক্তির আর্থিক কাঠামোর তদন্তের অংশ হিসেবে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা তাপিয়া ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোনসহ ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করেন। এমনকি আগামী ৩০ জুলাই ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তাপিয়াকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তলব করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


প্রতিবেদনগুলোতে আরো অভিযোগ তোলা হয়, ফ্লোরিডায় নিবন্ধিত ‘ট্যুরপ্রডএন্টার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিপুল অর্থ লেনদেন হয়েছে। ব্যবসায়ী হাভিয়ের ফারোনির সংশ্লিষ্টতায় এই প্রতিষ্ঠানটি স্পন্সরশিপ, প্রীতি ম্যাচ ও টিভি স্বত্ব বিক্রির ক্ষেত্রে এএফএ-র বাণিজ্যিক প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে। অভিযোগ রয়েছে, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের স্পন্সরদের কাছ থেকে প্রাপ্ত কোটি কোটি ডলার মায়ামির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হলেও এএফএ তা নিজেদের আর্থিক বিবরণীতে দেখায়নি।

সামাজিক মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হলে দ্রুতই আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে সব দাবি নাকচ করে এএফএ।


বিবৃতিতে জানানো হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে নথির কথা বলা হচ্ছে, সেটি এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া কিংবা কোষাধ্যক্ষ পাবলো তোভিগিনোর উদ্দেশ্যে জারি করা কোনো সমন নয়। তবে ফ্লোরিডার আদালত থেকে একটি সমন জারি করা হয়েছে স্বীকার করে এএফএ জানায়, তা মূলত একটি ‘তৃতীয় পক্ষের’ উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। যেখানে গ্র্যান্ড জুরির সামনে হাজির হয়ে এএফএ কর্মকর্তাদের সম্পর্কিত যোগাযোগের তথ্য জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, ক্লদিও তাপিয়া বা অন্য কোনো কর্মকর্তার মোবাইল ফোন বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করার বিষয়টি পুরোপুরি অসত্য। এমনকি আদালতের নথিতেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত আইনি বাধ্যবাধকতা বা সম্পদ বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়ার উল্লেখ নেই।


বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।