১৯৭২ সালে অ্যাপোলো–১৭ মিশনের পর দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীর বিরতি কাটিয়ে এবার আবারও চাঁদের কক্ষপথে মানুষ পাঠাতে যাচ্ছে নাসা। ঐতিহাসিক 'আর্টেমিস–২' মিশনের উৎক্ষেপণের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে আগামী ৬ মার্চ—ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ কমপ্লেক্স ৩৯বি থেকে। তবে সব প্রস্তুতি যথাসময়ে শেষ হওয়ার ওপর নির্ভর করে এই তারিখ কিছুটা পরিবর্তিতও হতে পারে।
উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি হিসেবে নাসা গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় 'ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল' সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এই মহড়ায় রকেটে ৭ লাখেরও বেশি গ্যালন তরল জ্বালানি ভরা হয় এবং উৎক্ষেপণের পূর্ণ ক্ষণগণনার অনুশীলন করা হয়। এর আগে ফেব্রুয়ারির শুরুতে প্রথম মহড়ায় হাইড্রোজেন লিকের সমস্যা দেখা দিলেও দ্বিতীয় দফায় প্রকৌশলীরা তা সফলভাবে কাটিয়ে উঠেছেন। নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, এই পরীক্ষার সাফল্য চাঁদে মানবজাতির প্রত্যাবর্তনের পথে একটি বড় মাইলফলক।
এই ঐতিহাসিক অভিযানে অংশ নিচ্ছেন চারজন নভোচারী—
রিড ওয়াইজম্যান (কমান্ডার, নাসা)
ভিক্টর গ্লোভার (পাইলট, নাসা)
ক্রিস্টিনা কোচ (মিশন স্পেশালিস্ট, নাসা)
জেরেমি হ্যানসেন (মিশন স্পেশালিস্ট, কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি)
প্রায় ১০ দিনের এই মিশনে নভোচারীরা প্রথমে পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরবেন, এরপর 'ফিগার-এইট' পথে চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবেন। যদিও 'ওরিয়ন' মহাকাশযান এই মিশনে চাঁদের মাটিতে অবতরণ করবে না, তবে নভোচারীরা চাঁদের দূরতম প্রান্ত অতিক্রম করার সময় অ্যাপোলো–১৩ মিশনের দূরত্বের রেকর্ড ভাঙতে পারেন এবং মানব ইতিহাসে সবচেয়ে দূরে যাওয়া অভিযাত্রী হিসেবে নিজেদের নাম লেখাতে পারেন।
নাসা আর্টেমিস–২ মিশনকে ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে অভিযানের মহড়া হিসেবে দেখছে। আর্টেমিস–২ সফল হলে পরবর্তী ধাপ 'আর্টেমিস–৩' মিশনের মাধ্যমে ২০২৭-২৮ সালের দিকে দীর্ঘ ৫৪ বছর পর আবারও মানুষের পা পড়বে চাঁদের মাটিতে। এমন পরিপ্রেক্ষিতেই মিশনটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ চীনও ২০৩০ সালের মধ্যে নিজস্ব চন্দ্রাভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।