বিপৎসীমার কাছাকাছি তিস্তার পানি

সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ১১:০৪ এএম

টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে ফের তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি প্রায় বিপৎসীমা ছুঁয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বুধবার সকাল ৯টায় তিস্তা ব্যারেজের ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টের খালিশাচাপানি বাইশপুকুর এলাকায় নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৪ সেন্টিমিটার। যা বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমার মাত্রা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার।

স্থানীয় নির্বাচনে এমপিও শিক্ষক ও ঋণখেলাপিদের অযোগ্য করার প্রস্তাব
যেকোনো সময় তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘‘মঙ্গলবার বিকালে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে, উজানে বৃষ্টির পানি তিস্তা দিয়ে রাতে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে বুধবার সকালে ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বা অতিক্রম করতে পারে। পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।’’

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া বিভাগের তিস্তা নদীর পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম বলেন, বুধবার সকাল ৯টায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সকাল ৬টাতেও পানি একই অবস্থানে ছিল।

তিনি জানান, এর আগের দিন মঙ্গলবার সকাল ৬টায় তিস্তার পানি ৫২ দশমিক ০০ সেন্টিমিটার, সকাল ৯টায় ৫১ দশমিক ৯৩ সেন্টিমিটার, দুপুর ১২টায় ৫১ দশমিক ৯০ সেন্টিমিটার এবং বিকাল ৩টা ও ৬টায় ৫১ দশমিক ৮৯ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হয়। রাতে কিছুটা বেড়ে ৯টায় পানির উচ্চতা দাঁড়ায় ৫১ দশমিক ৯৮ সেন্টিমিটারে, যা বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচে ছিল।

তিনি আরও জানান, সোমবার সকালে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। সেদিন পানির উচ্চতা ৫২ দশমিক ০০ থেকে ৫২ দশমিক ১০ সেন্টিমিটারের মধ্যে ওঠানামা করে।

এদিকে, গত ১৩ জুলাই থেকে ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ি এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে তিস্তার পানি প্রবেশ করেছে। এতে নদীপাড়ের সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।

পূর্বছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, “ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেশ্বর ও পূর্ব ছাতনাই গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ১ হাজার ২০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অনেকে ভাটি নিচু এলাকা ছেড়ে উজানে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছে।”

টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন বলেন, “আমার ইউনিয়নের চর এলাকার ১ হাজার ৩৫০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে গত ১৩ জুলাই থেকে। পানি কমলে এলাকার মানুষের কষ্ট কম হবে বলে এই আশায় রয়েছে তারা। কিন্তু উজানের পানি আর কমছে না।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ‘‘বাংলাদেশ অংশের ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে ভারতের মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবেশ করতে সাধারণত দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগে। তবে পানির প্রবাহ বেশি থাকলে এবং উজানে বেশি ঢল নামলে সেই পানি এক ঘণ্টার মধ্যেও প্রবেশ করতে পারে।’’

তিনি বলেন, ‘‘পানির প্রবাহ কম থাকলে তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় প্রতি ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার গতিতে পানি প্রবাহিত হয়। তবে উজান থেকে অতিরিক্ত ঢল নামলে পানির গতি ও প্রবাহ উভয়ই বেড়ে যায়। এ কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্বক্ষণিক নদীর পানির স্তর পর্যবেক্ষণ করছে।’’