‘ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার মামলাগুলো দ্রুত নিস্পত্তির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর’

সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক প্রকাশিত: মার্চ ১৭, ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশজুড়ে সাত দিনের সরকারি ছুটি চললেও দাপ্তরিক কাজে বিরতি নেননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ছুটির দিনেও সকাল থেকে সচিবালয়ে একের পর এক বৈঠক ও মন্ত্রিসভার বিশেষ সভায় সভাপতিত্ব করেন তিনি। সভায় নারীর প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচারে একটি ‘স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, নারীর প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

তিনি জানান, আগামীতে আগাম বন্যা ও শিলাবৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ঈদের ছুটির মধ্যেই প্রয়োজনীয় কর্মপন্থা ঠিক করতে ত্রাণ ও কৃষি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান। কৃষকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়গুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এদিন বেলা ১১টায় সচিবালয়ে পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রী বুয়েটের একদল প্রকৌশলীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন। রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন নিয়ে আলোচনার সময় তিনি বিদেশি যন্ত্র আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে প্রকৌশলীদের কাছে বিস্তারিত জানতে চান।

এরপর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের দুই প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আব্দুস সালাম ও উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন জানান, সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে এবং বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই জনগুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো দ্রুত শেষ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

দুপুর দুইটায় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক শুরু হয়। দেড় ঘণ্টার এই বৈঠকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট সংক্রান্ত নির্দিষ্টকরণ অধ্যাদেশ ২০২৫-কে আইনে পরিণত করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

এছাড়া ‘কৃষক কার্ড’ প্রণয়ন সম্পর্কিত সেলের সাথেও বৈঠক করেন তারেক রহমান। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২২ হাজার কৃষকের মাঝে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। আগামী পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইল সদরে এই প্রি-পাইলটিং প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দেশের ১১টি উপজেলায় একযোগে কৃষকদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে।