ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬
সর্বশেষ প্রাপ্ত ফলাফল দেখুন ফিচারড ইমেজ এ...
নীলফামারী-১ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আব্দুস সাত্তার। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ২১৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জমিয়তের মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ১৬০ ভোট।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত বিএনপির নূরুল ইসলাম
সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী নূরুল ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৯২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শামস উদদীন পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৩৫ ভোট।
ঢাকা-২ আসনে ১ লাখ ৬৩ হাজার ২০ ভোট পেয়ে জিতেছেন বিএনপির আমান উল্লাহ আমান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের কর্নেল (অব) আব্দুল হক পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৬৫৫।
কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান ১ লাখ ৬ হাজার ৩৪৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. আজিজুর রহমান পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৭৬২ ভোট পেয়েছেন।
পঞ্চগড় -১ আসনে বিএনপির মুহম্মদ নওশাদ জমির ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম শাপলাকলি প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট।
পঞ্চগড়-২ আসনে বিনপির ফরহাদ হোসেন আজাদ ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. সফিউল আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৬২ ভোট।
নরসিংদী-১ আসনে বিএনপির খায়রুল কবির বেসরকারিভাবে নির্বাচিত খায়রুল কবির খোকন
নরসিংদী-১ (সদর) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ১ লাখ ৬০ হাজার ৬৭৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মো. ইব্রাহীম ভূঞা পেয়েছেন ৯২ হাজার ৯৩০ ভোট।
১৪২টি কেন্দ্রের মধ্যে সবকটি কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে বেসরকারি এ ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার।
নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসনে বিএনপির প্রার্থী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬১ হাজার ৯১২ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৪৫ ভোট।
আসনটির মনোহরদী উপজেলায় ১০০ ও বেলাব উপজেলার ৬২ ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এই ১৬২টি কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে বেসরকারি এ ফলাফল ঘোষণা করেন দুই উপজেলার দায়িত্বে থাকা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
মৌলভীবাজার–৩ (সদর ও রাজনগর) আসনে বিএনপির প্রার্থী নাসের রহমান ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৫৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. আব্দুল মান্নান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৬৩৬ ভোট। আসনটিতে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯১৬টি। না ভোটের সংখ্যা ৭৮ হাজার ৬৭১।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খানছবি: মোস্তফা ইউসুফ
নরসিংদী-২ (পলাশ ও সদরের একাংশ) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান ৯২ হাজার ৩৫২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের বিদ্রোহী প্রার্থী আমজাদ হোসাইন পেয়েছেন ৫১ হাজার ১৬১ ভোট। এ ছাড়া ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী এনসিপির সারোয়ার তুষার পেয়েছেন ১৯ হাজার ২৩৬ ভোট।
পলাশের ৬১টি ও সদরের ৩০টি কেন্দ্রসহ মোট ৯১টি কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে বেসরকারি এ ফলাফল ঘোষণা করেন পলাশ ও সদরের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যথাক্রমে ইশতিয়াক আহমেদ ও আসমা জাহান সরকার।
বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) আসনে বিএনপির প্রার্থী শেখ ফরিদুল ইসলাম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৭১১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. আব্দুল ওয়াদুদ শেখ পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৭০৫ ভোট। মোংলা ও রামপাল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এই ফলাফল নিশ্চিত করেছেন।
লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসন থেকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা।
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৫। এ আসনে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মো. রেজাউল করিম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৯ ভোট।
লক্ষ্মীপুর-৩ আসন মোট ভোটার ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৪৭২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ, ২৯ হাজার ৭০৯ জন। নারী ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৫৮জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৩০টি।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ এনামুল হক। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৮০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বৃহত্তর সুন্নি জোটের বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু পেয়েছেন ২৮ হাজার ৭৭৭ ভোট। এ ছাড়া ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ফরিদুল আলম পেয়েছেন ২০ হাজার ৯৪২ ভোট। রাত ১টায় আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
এ আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৮ জন। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫১হাজার ৬১৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৫৪ জন, নারী ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৪০ জন এবং হিজড়া ১ জন। আসনের ১১৩টি ভোট কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন তাঁরা।
লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসন থেকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেন সেলিম। রাত ১২টার দিকে এ ফলাফল ঘোষণা করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাশিদ বিন এনাম।
শাহাদাত হোসেন সেলিম পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৫৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মো. মাহবুব আলম পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৪৩৬ ভোট।
লক্ষ্মীপুর-১ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৮১ হাজার ৩০২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫৮ জন। নারী ভোটার ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৪৪ জন। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৯৩টি।
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই ও শাল্লা) আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৫২২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৩ হাজার ২২০ ভোট। নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ৭০ হাজার ৭৯৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৯২৩ ভোট।
বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে সিলেটের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এ ফলাফল ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি জানান, এসব ভোটের সঙ্গে পোস্টাল ব্যালটের প্রাপ্ত ভোট যুক্ত হবে।
সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী এম এ মালিক। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ২৫৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দীন রাজু পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৬১৪ ভোট।
বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে সিলেটের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এ ফলাফল ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি জানান, এসব ভোটের সঙ্গে পোস্টাল ব্যালটের প্রাপ্ত ভোট যুক্ত হবে।
আসনটির মোট ভোটার ৪ লাখ ১৬ হাজার জন। এখানে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর (লুনা)। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৯৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য মনোনীত খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাছির আলী পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৪৪৬ ভোট।
বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে সিলেটের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এ ফলাফল ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি জানান, এসব ভোটের সঙ্গে পোস্টাল ব্যালটের প্রাপ্ত ভোট যুক্ত হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি ৯৫ হাজার ৩৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মহসীন পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৬৭ ভোট। জোনায়েদ সাকি ৫৫ হাজার ৩৭৫ ভোট বেশি পেয়েছেন।
রাত সাড়ে ১২টায় রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার এই ফলাফল ঘোষণা করেন। এই আসনের ৯৮টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬০৩টি ভোট। আসনটির মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮৯ হাজার ৬৭৪। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, এই আসনে ভোট পড়েছে ৫২ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ৬১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমিন পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ২৫ ভোট। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শরীফুল আলম চৌধুরী ২ হাজার ৮৭৩ ভোট পেয়েছেন।
রাত সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ৬ হাজার ৫৯। ২০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে বিস্তৃত এই আসনে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৫৭টি। এর মধ্যে সাতকানিয়ায় ৯০টি ও লোহাগাড়ায় ৬৭টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে।
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ১৯ হাজার ৭৫৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুক পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৩১১ ভোট।
পেকুয়া উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহবুব আলম ৪৭টি কেন্দ্রের ও চকরিয়া উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ১৩০টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন।
কক্সবাজার-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৮৯ জন। মোট প্রার্থী ৩ জন। কেন্দ্র রয়েছে ১৭৭ টি।
ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী মো. তমিজ উদ্দিন নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আসনটির ১৪৭টি কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬০ হাজার ৪২৮ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী এনসিপির নাবিলা তাসনিদ পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৩৪৩ ভোট।
এই আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৪১২টি। ‘না’ ভোট দিয়েছেন ৫০ হাজার ১১৪ জন। ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা খান সালমান হাবীব রাতে এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহী ৮১ হাজার ৪১৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফ উল ইসলাম মৃধা পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৪০১ ভোট।
১০২টি কেন্দ্রের মধ্যে সবকটি কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে এ ফলাফল ঘোষণা করেন শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার ফারজানা ইয়াসমিন।
বরিশাল-৫ (সদর-সিটি করপোরেশন) আসনে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে মজিবর রহমান ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম পেয়েছেন ৯৩ হাজার ২১৬ ভোট।
এই আসনে ভোট পড়েছে দুই লাখ ৫৭ হাজার ৫১৯ ভোট। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে সাত হাজার ৭০৬ ভোট। বৈধ ভোট ছিল দুই লাখ ৯৮ হাজার ১৩টি।
রংপুর-২ (তারাগঞ্জ এবং বদরগঞ্জ) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ টি এম আজহারুল ইসলাম। আসনটির ১৩৭টি কেন্দ্রে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মোট ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮০ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার ৭৯ হাজার ৯১০ ভোট পেয়েছেন। তারাগঞ্জ এবং বদরগঞ্জ উপজেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দপ্তর থেকে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বেসরকারি ফলে বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ৭২ হাজার ৩৫৩ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আলা উদ্দীন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩৭ হাজার ১৫৭ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে পোস্টাল ভোট পড়েছে ৪ হাজার ৭৮৪টি। এর মধ্যে ২ হাজার ৫০৫ ভোট দাঁড়িপাল্লা এবং ধানের শীষ পেয়েছে ৬৮৪ ভোট।
রাত সাড়ে ১১টায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা বেসরকারি এই ফলাফল ঘোষণা করেন। আসনটিতে মোট ভোটার ২ লাখ ৬০ হাজার ৪৮৫ জন।
কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) আসনে বেসরকারি ফলাফলে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বিজয়ী হয়েছেন। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯১ হাজার ৪১৪ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. আজিজুর রহমান (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩৩৫ ভোট।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ এই ফলাফল ঘোষণা করেন। এই আসনে ১৩০টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৬২ হাজার ৭৫৩ জন।
বরিশাল-৫ (সদর-সিটি করপোরেশন) আসনের ১৭৬ কেন্দ্রের মধ্যে ১২২ কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপি প্রার্থী মো. মজিবর রহমান সরওয়ার এগিয়ে আছেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৮৩ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী দলের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম ১৮ হাজার ১৬২ ভোট পেয়েছেন। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী পেয়েছেন ১৪ হাজার ৬১০ ভোট।
সুনামগঞ্জ–১ (ধর্মপাশা ও তাহিরপুর) আসনে বিএনপির কামরুজ্জামান কামরুল ৩৪, ৯৪১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের তোফায়েল আহমদ পেয়েছেন ২০ হাজার ৪০ ভোট।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জনি রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে ১৮৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৭৬টির ফল ঘোষণা হয়েছে। এর মধ্যে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৯৫ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে আছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মির্জা ফখরুল ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৮৪ ভোট পেয়েছেন। অপর প্রার্থী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৩৩ ভোট।
খাগড়াছড়ি আসনে ১১০টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে এগিয়ে আছেন বিএনপির প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া। তিনি পেয়েছেন ৭৬ হাজার ২৮৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমা পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৩১৩ ভোট। জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে প্রাথমিক ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্রে এই ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত।
খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনে ভোট কেন্দ্র ২০৩টি। ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১১৪ জন। মোট প্রার্থী ১১জন।
ফেনী-২ আসনের ৫০টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক। এসব কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী জয়নাল আবদীন (ভিপি জয়নাল) ৪৩ হাজার ৫২১ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য মনোনীত এবি পার্টির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ভূঁইয়া (মঞ্জু) পেয়েছেন ২৪ হাজার ১২৪ ভোট।
আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮ জন। মোট কেন্দ্র রয়েছে ১৪৬টি।
পিরোজপুর -৩ (মঠবাড়িয়া উপজেলা) আসনে ৫৭টি কেন্দ্রে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. রুহুল আমীন দুলাল পেয়েছেন ৪১ হাজার ৬৬৪ ভোট।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. রুস্তম আলী ফরাজী হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ২৩ হাজার ৭৩৪ ভোট।
এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ৮৫টি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপি সমর্থিত জোটের প্রার্থী গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিফাইল ছবি: প্রথম আলো
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন: ১৯ কেন্দ্রে গণসংহতির জোনায়েদ সাকি ১৬,৪০৭ এবং জামায়াতের মহসীন ৫৯৫৮
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৬ আসনে (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি এগিয়ে আছেন। রাত ১০টা পর্যন্ত মোট ৯৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯টির ফল পাওয়া গেছে। সেখানে তিনি মাথাল প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১৬ হাজার ৪০৭টি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মহসীন পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৫৮ ভোট।
এই আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৮৯ হাজার ৬৭৪। রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, এই আসনে ভোট পড়েছে ৫২ দশমিক ২৪ শতাংশ। তিনি রাত ১০টার দিকে ১৯টি কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করেছেন।
২২: ১৭ , ফেব্রুয়ারি ১২
পিরোজপুর-২ (ভাণ্ডারিয়া, কাউখালী ও নেছারাবাদ) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর শামীম সাঈদী ২৩টি কেন্দ্রে পেয়েছেন ১২ হাজার ২৯৮ ভোট। বিএনপির আহম্মদ সোহেল মনজুর ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ৫১ ভোট। এ আসনে মোট কেন্দ্র ১৬৬ টি।
ঘোষিত ২৩ কেন্দ্রে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১৮ হাজার ৪ টি, ‘না’ পড়েছে ৯ হাজার ৮৫৫ টি।
নোয়াখালী-১ আসনে ১৪২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪০ টির ঘোষিত ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৪২৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ছাইফ উল্যাহ পেয়েছেন ২৪ হাজার ৯৩৭ ভোট।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ৪০ কেন্দ্রের এ ফল ঘোষণা দিয়েছেন।
কুড়িগ্রাম-২ (সদর, রাজারহাট, ফুলবাড়ী) আসনে ১৩৪টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলে এগিয়ে আছেন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য মনোনীত প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আতিকুর রহমান মোজাহিদ। শাপলা কলি প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৪৯৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৬ হাজার ২৭২ ভোট পেয়েছেন।
আসনটিতে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২০৫টি। মোট ভোটার রয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার ৭৩৬ জন।
ফেনী-২ আসনের ২৪টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক। এই ২৪টি কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী জয়নাল আবদীন ওরফে ভিপি জয়নাল ১৯ হাজার ৫৪২ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবি পার্টির মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু পেয়েছেন ১১ হাজার ৬৮৩ ভোট।
ফেনী-০২ (সদর) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮ জন। মোট প্রার্থী ১১ জন। কেন্দ্র রয়েছে ১৪৬টি।
পাবনা–৫ (সদর) আসনে ৮২ কেন্দ্রের ভোটে এগিয়ে আছেন বিএনপির প্রার্থী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯২ হাজার ৩৭০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মো. ইকবাল হোসাইন দঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৪৯০ ভোট।
এই আসনে মোট কেন্দ্র ১৬৩।
নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দল মনোনীত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী গোলাম রব্বানীর অন্তত ৭০ হাজার ৮৫৫ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কায়সার কামাল ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গোলাম রব্বানী রিকশা প্রতীকে ৮৭ হাজার ৪৮৮ ভোট পেয়েছেন।
নেত্রকোনা-১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৮৯ জন। ভোট পড়েছে ৫৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অন্য চারজন হলেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন খান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী মো. আলকাছ উদ্দিন মীর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. আ. মান্নান (সোহাগ) এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের তারা প্রতীকের প্রার্থী মো. বেলাল হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা-১ আসনটি সমতল, পাহাড় ও আংশিক হাওর এলাকা নিয়ে গঠিত। মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও হাজং বিদ্রোহ, হাতিখেদা, তেভাগা, ব্রিটিশবিরোধী, টংক আন্দোলনসহ নানা ঐতিহাসিক ঘটনায় আলোচিত এখানকার রাজনৈতিক অঙ্গন। কায়সার কামাল এর আগেও দুইবার ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পাননি। এই প্রথম জয়ের মুখ দেখলেন তিনি।
কায়সার কামাল দীর্ঘদিন ধরে গারো, হাজং প্রভৃতি ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও বাঙালি অধ্যুষিত এই জনপদে প্রচার চালিয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি নিজ খরচ ও উদ্যোগে কয়েক হাজার দরিদ্র ও চিকিৎসাবঞ্চিত জটিল রোগীর চিকিৎসা সহায়তা করেছেন। নির্মাণ ও সংস্কার করেছেন বেশ কিছু জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, অস্থায়ী সেতু, গির্জা, মন্দিরসহ ধর্মীয় উপাসনালয়, শ্মশান ও কবরস্থান। গৃহহীনদের দিয়েছেন ঘর। প্রথাগত রাজনৈতিক মিছিল-শোডাউনের বদলে এসব জনকল্যাণমূলক কাজ করে তিনি ভোটারদের মন জয় করেছেন।
নির্বাচনে জয়লাভের পর কায়সার কামাল বলেন, ‘আমি জনগণের জন্য রাজনীতি করি। জাতি, বর্ণ ও ধর্ম–নির্বিশেষে দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন। তাঁদের কাছে দেওয়া ওয়াদা যেন আমি রক্ষা করতে পারি, আমার জন্য সেই প্রার্থনা করবেন। আমি যেন সব সময় জনগণের সেবক হয়ে থাকতে পারি। এ ছাড়া এলাকার রাজনৈতিক পরিবেশকে সুন্দর রাখার ব্যাপারেও আমি সব সময় সজাগ থাকব। সবাইকে নিয়োজিত সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা দুর্গাপুর–কলমাকান্দার উন্নয়নে কাজ করব।’
বরিশাল-৫ (সদর-সিটি করপোরেশন) আসনে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে মজিবর রহমান ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬ ভোট পেয়েছেন।
তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম পেয়েছেন ৯৩ হাজার ২১৬ ভোট।
এই আসনে ভোট পড়েছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৫১৯টি। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৭ হাজার ৭০৬ ভোট। বৈধ ভোট ছিল ২ লাখ ৯৮ হাজার ১৩টি।
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে বেসরকারি ফলে ৪৫ হাজারের বেশি ভোটে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী। তিনি ১ লাখ ৭২ হাজার ৬১ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ২৫ ভোট।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম-১৫ আসনের ফল ঘোষণা করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।
ফলে দেখা যায়, জামায়াত ও বিএনপি প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৪৫ হাজার ৩৬। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শরীফুল আলম চৌধুরী হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৮৭৩ ভোট।
২০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৬ হাজার ৫৯ জন। ১৫৭টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে সাতকানিয়া উপজেলায় ৯০টি ও লোহাগাড়া উপজেলায় ৬৭টি ভোটকেন্দ্র ছিল।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদছবি: প্রথম আলো
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের বেসরকারি ফলে বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ১৯ হাজার ৭৫৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৩১১ ভোট।
পেকুয়া উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহবুব আলম ৪৭টি কেন্দ্রের ও চকরিয়া উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ১৩০টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন।
কক্সবাজার-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৮৯ জন। মোট প্রার্থী ৩ জন। কেন্দ্র রয়েছে ১৭৭টি।
খুলনা–৩ আসনে (সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড, যোগীপোল ও আড়ংঘাটা ইউনিয়ন) পোস্টাল ভোটকেন্দ্রসহ ১১৬টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম (বকুল) বিজয়ী হয়েছেন।
খুলনা–৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের বেসরকারিভাবে রকিবুল ইসলামকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। ধানের শীষ প্রতীকে এই প্রার্থী পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৮৪৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের খুলনা মহানগর আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১০ ভোট।
খুলনা-৩ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৯ জন। আসনটিতে ভোট পড়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ১০৪টি। মোট প্রার্থী ছিলেন ১০ জন।
খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে হারিয়ে জামায়াতে ইসলামীর শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বিজয়ী হয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হয়। বিকেল থেকে ভোট গণনা শুরু হয়। গতকাল দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে এই আসনের মোট ১৫৮টি কেন্দ্রের সব কটির ভোট গণনা শেষ হয়।
জামায়াতের প্রার্থী মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৭৮৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৮ হাজার ১৯৭ ভোট। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আমানুল্লাহ হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছে ৭ হাজার ২৯৮ ভোট।
খুলনার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আ স ম জামশেদ খোন্দকার ভোটের এ ফল নিশ্চিত করেছেন।
২০০৮ সালে খুলনার ৬টি আসন থেকে একমাত্র বিএনপির প্রার্থী হিসেবে খুলনা-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ২০০১ সালে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই আসন থেকে জয় পান। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে এখানে বিএনপি থেকে জয় পান সাবেক স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলী। ১৯৯৬ সালের পর এই আসনে কখনো প্রার্থী দেয়নি জামায়াত।
ঢাকা-৮ ও ঢাকা-১৬ আসনের কয়েকটি কেন্দ্রের প্রাথমিক ফল প্রকাশ করেছে ঢাকার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১টায় এসব কেন্দ্রের ভোটের ফল ঘোষণা করা হয়।
ঢাকা-৮ আসনের ১০৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৩টির ফল পাওয়া গেছে। এতে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৯০ ভোট। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী এনসিপি নেতা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী পেয়েছেন ১৫ হাজার ৪৭০ ভোট।
এ ছাড়া ঢাকা-১৬ আসনের ১৩৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৯টির ফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী আমিনুল হক পেয়েছেন ১৬ হাজার ১৭৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল বাতেন পেয়েছেন ১৫ হাজার ৫১৬ ভোট।
বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আসা ফল একসঙ্গে করে প্রকাশ করছে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ শেষে গণনা শুরু হয়, যা এখনো চলছে।
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপির বহিস্কৃত নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এম. এ. হান্নান চিংড়ি প্রতীকে ৫ হাজার ৭৬৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক লায়ন মো. হারুনুর রশিদকে হারিয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন।
নির্বাচনে ১১৮টি কেন্দ্র এবং দেশী চাকরিজীবী ও প্রবাসীদের পোস্টাল ভোট থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে এম. এ. হান্নান ৭৩ হাজার ৫৯৯ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লায়ন মো. হারুনুর রশিদ পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৮৩৩ ভোট।
বগুড়ায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ মোট ৭টি আসনে ধানের শীষ প্রার্থীর বিজয়ী হয়েছেন।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী বগুড়া-৬ (সদর) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান পেয়েছেন ২ লাখ ১৪ হাজার ৭২৮ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫৪১ ভোট।
বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দী-সোনাতলা) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৭৩ হাজার ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মো. শাহাবুদ্দিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৬৮৫ ভোট।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মীর শাহে আলম ১ লাখ ৪৫ হাজার ১৩৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান পেয়েছেন ৯২ হাজার ৪৩ ভোট।
বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাচিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মো. আব্দুল মুহিত তালুকদার ১ লাখ ২৬ হাজার ৬৭২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুর মোহাম্মদ পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৬৭৮ ভোট।
বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোশারফ হোসেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৯০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. মোস্তফা কামাল পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ১৯১ ভোট।
বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৯৬ ভোট।
বগুড়া-০৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. মোরশেদ মিল্টন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৩০৫ ভোট নিয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মো. গোলাম রাব্বানী পেয়েছেন ৭০ হাজার ২৮ ভোট।
এছাড়া ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী পেয়েছেন ৬২ হাজার ২৭৩ ভোট।
আদালতে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শেরপুর-২, চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা করবে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) এসংক্রান্ত জারি করা পৃথক তিনটি চিঠি থেকে বিষয়টি জানা গেছে।
চট্টগ্রাম-৪ আসনের জন্য জারি করা চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিপিএলএ নং ৪৪১/২০২৬ (মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ১১৭৪/২০২৬ হতে উদ্বৃত)-এর ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশের আলোকে নির্বাচনী এলাকা ২৮১ চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে যথারীতি অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে মাননীয় আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিপিএলএ নং ৪৪১/২০২৬ চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকায় মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর ফলাফল স্থগিত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে।
চট্টগ্রাম-২ আসনের জন্য জারি করা চিঠিতে বলা হয়েছে, আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিপিএলএ নং ৪৪০/২০২৬ (মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ১০৫৩/২০২৬ হতে উদ্বৃত) এর ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশের আলোকে নির্বাচনি এলাকা ২৭৯ চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে যথারীতি অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে মাননীয় আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিপিএলএ নং ৪৪০/২০২৬ চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীরের নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকায় সরোয়ার আলমগীরের ফলাফল স্থগিত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে।
শেরপুর-২ আসনের জন্য জারি করা চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিপিএলএ নং ৪৪২/২০২৬ (মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ১১৮৬/২০২৬ হতে উদ্বৃত) এর ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশের আলোকে নির্বাচনী এলাকা ১৪৪ শেরপুর-২ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে যথারীতি অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে মাননীয় আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিপিএলএ নং ৪৪২/২০২৬-এর চূড়ান্ত আদেশের ওপর মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরীর নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভরশীল হবে মর্মে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১টায় জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রুমিন ফারহানা পেয়েছেন এক লাখ ২৫ হাজার ৫০০ ভোট। তাঁর নিকটবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ের মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব খেজুরগাছ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৯২৭ ভোট।
নওগাঁয় ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই বিএনপি ও একটি জামায়াত ইসলামী বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
নওগাঁ-১ (সাপাহার, পোরশা ও নিয়ামতপুর) ভোটকেন্দ্র ১৬৬টি। সবকটি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী মোস্তাফিজুর রহমান ধানের প্রতীকে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহা. মাহবুবুল আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮১৬ ভোট পেয়েছেন।
নওগাঁ-২ (ধামইরহাট ও পত্নীতলা) ভোটকেন্দ্র ১২৪টি। সবকটি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো. এনামুল হক ১ লাখ ৪১ হাজার ৫২৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম সামসুজ্জোহা খান ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩৩।
নওগাঁ-৩ (বদলগাছী ও মহাদেবপুর) ভোটকেন্দ্র ১২৪টি। সবকটি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, মো. ফজলে হুদা ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৪৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাহফুজুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ১৭ হাজার ৮৩৮ ভোট পেয়েছে।
নওগাঁ-৪ (মান্দা) ভোটকেন্দ্র ১১৭।
সবকটি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ইকরামুল বারী টিপু ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮০১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রাকিব দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯৬ হাজার ৮১৪ ভোট পেয়েছে।
নওগাঁ-৫ (নওগাঁ সদর) ভোটকেন্দ্র ১১৮টি। সবকটি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, জাহিদুল ইসলাম ধলু ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবু সাদাত মো. সায়েম ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৩ হাজার ২৩৬ ভোট পেয়েছে।
নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) ভোটকেন্দ্র ১১৫টি আসন। সবকটি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে শেখ মো. রেজাউল ইসলাম ১ লাখ ৮ হাজার ৭০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খবিরুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯৫ হাজার ৮৮৬ ভোট পেয়েছেন।
প্রসঙ্গত, নওগাঁর ৬টি আসনে বিএনপি, জামাত, স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৩২ জন প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ৬টি আসনে ভোটার ছিল ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ জন এবং নারী ভোটার রয়েছে ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৭ জন। এদের মধ্যে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে মোট ২১ জন।
রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও রংপুর সিটি করপোরেশন ১-৯) আসনে ভূমিধস জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. রায়হান সিরাজী।
দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে রায়হান সিরাজী পেয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মোকারম হোসেন সুজন পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৬৩১ ভোট। ফলে ৭৬ হাজার ৮৮২ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন রায়হান সিরাজী।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে এটি এম গোলাম মোস্তফা (হাতপাখা) পেয়েছেন ৫ হাজার ১৭৯ ভোট, আহসানুল আরেফীন (কাচি) পেয়েছেন ৪৩৪ ভোট, মো. আনাস (চেয়ার) পেয়েছেন ১ হাজার ৮৭ ভোট।
এই আসনে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৩৩ এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ৪৭ হাজার ১৩ ভোট।
ফলাফল ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় মো. রায়হান সিরাজী ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রংপুর-১ আসনের সর্বস্তরের ভোটারদের প্রতি আমি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
তারা আমাকে যে আস্থা ও দায়িত্ব দিয়েছেন, তা যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করব।
তিনি আরো বলেন, আমি বিশেষভাবে তরুণদের নিয়ে কাজ করতে চাই। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন উদ্যোগ গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমাদের তরুণ সমাজই আগামীর শক্তি।
তিস্তা নদী ও এর তীরবর্তী মানুষের সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। নদীভাঙন রোধ, পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের চেষ্টা থাকবে।
পরাজিত প্রার্থীদের উদ্দেশে রায়হান সিরাজী বলেন, নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতার জায়গা হলেও উন্নয়নের প্রশ্নে আমরা সবাই এক। পরাজিত প্রার্থীদের সঙ্গেও সমন্বয় করে রংপুর-১ আসনের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করতে চাই।
ফলাফল ঘোষণার পর গঙ্গাচড়া ও আশপাশের এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মাঝে আনন্দের উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
মিছিল, স্লোগান ও মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে বিজয় উদ্যাপন করা হয়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ ও গণনা সম্পন্ন হওয়ায় সাধারণ ভোটাররাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মু. কামরুল হাসান মিলন তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে ২৩ হাজার ২৭৭ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থাপিত ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
এ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত অধ্যক্ষ মু. কামরুল হাসান মিলন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৭৫ হাজার ৯৪৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও উপজেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আখতার সুলতানা ফুটবল প্রতীকে ৫২ হাজার ৬৬৯ ভোট পেয়েছেন।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন ঘোড়া প্রতীকে ৫১ হাজার ২৩৪ ভোট, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুল আলম ফারুক ধানের শীষ প্রতীকে ৪৮ হাজার ৯৯৪ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন মনোনীত মুফতি নূরে আলম সিদ্দিকী হাতপাখা প্রতীকে ১ হাজার ৯৩৮ ভোট পেয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ফুলবাড়িয়া পৌরসভাসহ ১৩টি ইউনিয়নের ১২১টি ভোটকেন্দ্রে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঢাকা-১৯ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ৩০ হাজার ৩৫১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি প্রার্থী দিলশানা পারুল শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ৬১ হাজার ৮১৩ ভোট।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেসরকারি ফলাফলে এ তথ্য উঠে আসে।
এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ২৭৫টি এবং মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৪১ হাজার ৫৫২ জন।
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া) আসনের নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এই আসনে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সকে ৬ হাজার ৩৩৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই আসনের মোট ১৪৩টি ভোটকেন্দ্রে (হালুয়াঘাটে ৯৪টি ও ধোবাউড়ায় ৪৯টি) মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৬৭৩টি।
এর মধ্যে সালমান ওমর রুবেল (স্বতন্ত্র) পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ২৬৫ ভোট। অপরদিকে, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৯২৬ ভোট।
ফলাফল ঘোষণার সময় হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলা চত্বরে ধানের শীষের বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক জড়ো হলে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে র্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আমরা অত্যন্ত সজাগ ছিলাম। ফলাফল ঘোষণার সময় কিছু এলাকায় লোকসমাগম বাড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।
পঞ্চগড়ে দুই আসনেই বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী
পঞ্চগড়ের দুটি আসনেই জয় পেয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। পঞ্চগড়-১ আসনে সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী পরিষদের সদস্য দলটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ও পঞ্চগড়-২ আসনে বিএনপির পল্লী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন আজাদ জয়ী হয়েছেন।
তারা দুজনেই ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। পঞ্চগড়-১ আসনে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৯ ভোট।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সারজিস আলম শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট।
এই আসনে ১৫৬ কেন্দ্রে মোট ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭০০ জনের মধ্যে ভোট দেন ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৯৬৭ জন। ভোট বাতিল হয়েছে ৮ হাজার ৯৪২ জনের। ভোট পড়ার হার ৭৭.৪১ শতাংশ।
পঞ্চগড়-২ আসনে বিএনপির পল্লী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন আজাদ জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী শফিউল আলম পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৬২ ভোট।
এই আসনে ১৩৩ কেন্দ্রে মোট ৪ লাখ ১৭ হাজার ৫২৯ জন।
এর মধ্যে ভোট দেন ৩ লাখ ২২ হাজার ৩০৭ জন। ভোট বাতিল হয়েছে ৭ হাজার ১৫৮ জনের। ভোট পড়ার হার ৭৭.১৯ শতাংশ।
সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরামহীন ভোটগ্রহণ শেষে গণনার পর রাতে ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী মো সায়েমুজ্জামান। নির্বাচনে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল।
তিন উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের তথ্য মোতাবেক বেসরকারি ফলাফল থেকে পাওয়া গেছে, ফরিদপুর-৪ আসনে ১৮৯ টি কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৩২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসাইন পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৬২৩ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ৫২ হাজার ৯০৯ ভোট বেশি পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আবু জাহের ভাঙ্গা অংশের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। প্রাপ্ত ফলাফলে ভাঙ্গা উপজেলার ৯৯ টি কেন্দ্রের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকের শহিদুল ইসলাম বাবুল পেয়েছেন ৬০ হাজার ৭৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা সরওয়ার হোসাইন পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৪৯৪ ভোট। ভাঙ্গা উপজেলায় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ১৬ হাজার ২৮১ ভোট বেশি পেয়েছেন।
অন্যদিকে, সদরপুর উপজেলার ৬৮টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে জানা গেছে, শহিদুল ইসলাম বাবুল পেয়েছেন ৪৮ হাজার ২০২ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসাইন পেয়েছেন ২২ হাজার ১৫৪ ভোট। এই উপজেলায় ধানের শীষের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল ২৬ হাজার ৪৮ ভোট বেশি পেয়েছেন।
অন্যদিকে, চরভদ্রাসন উপজেলার ২২টি ভোট কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল পেয়েছেন ১৭ হাজার ৫৫৫ ভোট।
তার প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাওলানা সরোয়ার হোসাইন পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৫ ভোট। এই উপজেলায় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ১০ হাজার ৫৮০ ভোট বেশি পেয়েছেন।
ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪৭টি কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সব কেন্দ্রেই ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী তমিজ উদ্দিন বিপুলভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৪২৮। এর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ ভোট পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৩৪৩।
এছাড়া খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি আশরাফ আলী ভোট পেয়েছেন ৯ হাজার ৮৩।
এ আসনে ভোটার রয়েছে তিন লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৮। প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ৩৫ হাজার ৭২৩। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির নাবিলা তাসনিদ তার নিজ কেন্দ্র ধুলট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও ১০২ ভোটে নাবিলাকে পরাজিত করেন তমিজ উদ্দিন।
তিনি ভোট পেয়েছেন ৬৩২ ভোট আর নাবিলা তাসনিদ পেয়েছেন ৫৩৪ ভোট। এ আসনে বিএনপি, এনসিপি, জাসদ, এবি পার্টি, খেলাফত মজলিস, জাতীয় পার্টিসহ ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
তমিজ উদ্দিন বর্তমানে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ধামরাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের তিনবারের চেয়ারম্যান এবং প্রায় ৪৪ বছর আগে তিনি ধামরাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি কোন নির্বাচনেই পরাজিত হননি।
তমিজ উদ্দিন ইউনিয়ন পরিষদে একবার ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরমধ্যে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরপর দুইবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার কাছে বিপুল ভোটে পরাজয়বরণ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র গোলাম কবির।
চাঁদপুর -১ (কচুয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৬২। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে আবু নসর আশরাফী পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৭৭ ভোট।
কক্সবাজারে চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনীত চারজন প্রার্থীই কেন্দ্র ভিত্তিক পাওয়া ফলাফলে বিজয় লাভ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভোট কেন্দ্র থেকে পাওয়া ফলাফল অনুযায়ী সবচেয়ে বড়ো ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন কক্সবাজার-১ চকরিয়া পেকুয়া আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুককে ৯৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।
কক্সবাজার - ১ ( চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত সালাহউদ্দিন আহমদ (ধানের শীষ) ২ লাখ ২০ হাজার ৫৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল্লাহ আল ফারুক (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৭২৬ ভোট।
কক্সবাজার- ২ (কুতুবদিয়া-মহেশখালী) আসনে
মোট ভোট কেন্দ্র: ১২৪ টি। সবকটি কেন্দ্রে বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ (ধানের শীষ) ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬২ ভোট পেয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৬৩৪ ভোট।
কক্সবাজার- ৩ (সদর, রামু ও ঈদগাঁও) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল (ধানের শীষ) ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৬০ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত শহীদুল আলম বাহাদুর (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ৯৯৪ ভোট।
কক্সবাজার- ৪ (উখিয়া ও টেকনাফ) আসনে মোট ১১৫টি কেন্দ্রের বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী ৯২৯ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৯০৯ ভোট।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৯৮০ ভোট।