বিএনপি সরকারে গেলে দেশের কোনো অঞ্চলের প্রতি বৈষম্য করতে চান না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু বগুড়া নয়, সমগ্র দেশের কথা চিন্তা করতে হবে। বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভার মঞ্চে আসেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জোবাইদা রহমান। মঞ্চে পৌঁছানোর আগে তারেক রহমান নওগাঁয় নির্বাচনী জনসভা করেন।
রাত ১২টা ২৩ মিনিটে মঞ্চে বক্তব্য শুরু করেন তারেক রহমান। বগুড়াকে ‘নিজের ঘর’ অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘নিজের ঘরে এসে কী বলব তাল হারিয়ে ফেলেছি। নিজেও অনেকটা ইমোশনাল (আবেগাপ্লুত) হয়ে গেছি। ঘরের মানুষের কাছে তো বলাবার কিছু নেই।’
তারেক রহমান বলেন, ‘১৯ বছর আগে যখন এখানে এসেছিলাম, সেদিন বগুড়া সদরসহ সমগ্র জেলার মানুষের জন্য যে যে কাজগুলো করার দরকার ছিল, তা কমবেশি করার চেষ্টা করেছি। সরকারের আইন-কানুন, নীতি-রীতির মধ্য থেকে যতটুকু সম্ভব হয়েছে, তা করার চেষ্টা করেছি। বনানী-মাটিডালি চওড়া রাস্তা, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ এবং গ্যাসের লাইনসহ মানুষের জন্য যা যা প্রয়োজন, এ রকম বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করার চেষ্টা করেছি।’
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘সামনে নির্বাচন। এই নির্বাচনে দেশের মানুষকে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই নির্বাচন শুধু নির্বাচন নয়। এই নির্বাচন নিশ্চিত করবে আগামী দিনে এই দেশে মানুষের জবাবদিহিমূলক সরকার হবে, কি হবে না। এই নির্বাচনের ব্যাপারে অত্যন্ত সিরিয়াস থাকতে হবে। এই নির্বাচন দিক-নির্দেশনা দেবে দেশ কোন দিকে পরিচালিত হবে।’
দেশের কোনো অঞ্চলের প্রতি বৈষম্য করতে চান না জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘১৫ বছর ধরে শুধু বগুড়া নয়, গোটা বাংলাদেশই সত্যিকারভাবে উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল। আগামী দিনে যদি আল্লাহ আমাদের দেশ পরিচালনার সুযোগ দেয়, তবে শুধু বগুড়া নয় সমগ্র দেশের কথা চিন্তা করতে হবে। বগুড়াকে যেমন আমরা সামনের দিকে নিয়ে যাব, সামগ্রিকভাবে গোটা দেশেকেও এগিয়ে নিতে হবে।’
সামগ্রিকভাবে পুরো দেশ ১৫ বছর উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের মানুষ ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা পায়নি। দেশের কৃষকেরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। ১৫ বছরে কল-কারখানা সঠিকভাবে গড়ে উঠতে দেয়নি। শুধু একটি কাজ হয়েছে। তথাকথিত মেগা প্রজেক্ট হয়েছে, মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যেভাবেই হোক দুর্নীতির টুটি চেপে ধরতে হবে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আগামী দিনে আমরা সরকার গঠন করলে শুধু বগুড়ার কথা চিন্তা করলে হবে না, গোটা দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। বগুড়াবাসীকে সমগ্র দেশের কথা চিন্তা করতে হবে। অপনাদেরকে সমগ্র দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা সরকারে গেলে চাকরি-বাকরি ,ব্যবসা-বাণিজ্য—সবকিছুই যোগ্যতার ভিত্তিতেই হবে। আমরা চাইব না অন্যরা কেউ আমাদেরকে বিতর্কিত অবস্থায় ফেলুক। আমরা বগুড়ার নাম খারাপ করতে চাই না। বগুড়ার ন্যায্য অধিকার অবশ্যই বগুড়া পাবে। তবে আমরা আমাদের অধিকার আদায় করতে গিয়ে খেয়াল রাখো, অন্যের অধিকার যাতে নষ্ট না হয়। ন্যায্য অধিকার থেকে কাউকে যাতে আমরা বঞ্চিত না করি।’
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও বগুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র রেজাউল করিম। এ সময় মঞ্চে জেলার অন্য ছয়টি সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত ও সমর্থিত প্রার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মোশারফ হোসেন এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সহিদ-উন-নবী সালাম ও খায়রুল বাশার।