যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ ইরানি জাহাজ ‘তৌস্কা’ এর ৬ ক্রু মুক্ত

সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক প্রকাশিত: এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ০১:১২ পিএম

দেড় সপ্তাহ আগে মার্কিন বাহিনীর হাতে জব্দ হওয়া ইরানি কনটেইনার জাহাজ ‘তৌস্কা’র ৬ জন ক্রু মুক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা তাসনিম। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-সংশ্লিষ্ট এই সংবাদমাধ্যম জানায়, ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রচেষ্টার ফলে তাদের মুক্তি সম্ভব হয়েছে।
তাসনিমের বরাতে বলা হয়, মোট ২৮ জন ক্রুর মধ্যে বর্তমানে ৬ জন ইরানে ফিরে এসেছেন। বাকি ২২ জনের মুক্তির জন্যও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। জাহাজটি চীন থেকে ইরানের বন্দর আব্বাসের উদ্দেশে যাচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

ভারতের চার রাজ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, বুথফেরতে জমে উঠেছে সমীকরণ
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন বাহিনী ওমান উপসাগরে নৌ অভিযান চালিয়ে জাহাজটি আটক করে এবং নিয়ন্ত্রণ নেয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি অনুযায়ী, ছয় ঘণ্টা ধরে সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও জাহাজটির ইঞ্জিনরুম খালি করা হয়নি বলে তারা পদক্ষেপ নেয়।

তাসনিম আরও জানায়, জাহাজ আটককে “জলদস্যুতা” হিসেবে উল্লেখ করে ইরান অভিযোগ তুলেছে। আটক হওয়ার পর ইরান ঘোষণা দেয় যে ক্রুদের নিরাপত্তা বিবেচনায় তাৎক্ষণিক সামরিক প্রতিক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে।

ইরানের সামরিক কমান্ড খাতামুল আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদরদপ্তর বলেছিল, ক্রু ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। একইসঙ্গে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে “যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা” নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

অন্যদিকে মার্কিন পক্ষ দাবি করেছে, জাহাজটি আন্তর্জাতিক নিয়ম ভঙ্গ করে ইরানের দিকে যাচ্ছিল এবং নিরাপত্তা বিবেচনায় আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই অঞ্চলে মার্কিন ও ইরানি নৌবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।

তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজ আটক হওয়ার পর ওই এলাকায় অবস্থানরত মার্কিন নৌযান লক্ষ্য করে ইরান ড্রোন মোতায়েন করেছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

এ ঘটনার মধ্য দিয়ে হরমুজ প্রণালিসহ মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য রুটে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই জলপথ দিয়ে বিশ্ব তেল সরবরাহের বড় অংশ প্রবাহিত হয়, ফলে উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।

এখন পর্যন্ত দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় ‘তৌস্কা’ জাহাজকে ঘিরে সংকটের পূর্ণ সমাধান অনিশ্চিত রয়ে গেছে।