ভারতের গণতন্ত্র নিয়ে সন্দিহান প্রিয়াঙ্কা

সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ০১:৩৩ এএম

ভারতে নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারকে গণতন্ত্রবিরোধী বলে অভিযুক্ত করেছেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। একই সঙ্গে সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা করতে না দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

বুধবার সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেছেন, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এর আগে মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অভিযানের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ বিরোধী জোটের নেতারা। পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে আটক করে। পরে রাতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরদিন আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে কালো পোশাক পরে সংসদে যান কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিভিন্ন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সংসদ ভবনের বাইরে তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। একই সময়ে দিল্লির যন্তর-মন্তরে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে কঠোর পরিশ্রম করে। কিন্তু তাদের সেই ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের শিক্ষা খাতে বরাদ্দ সীমিত হলেও বড় করপোরেট গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাচ্ছে।

সংসদের স্পিকার ওম বিড়লার ভূমিকাও সমালোচনা করেন কংগ্রেস নেত্রী। তার দাবি, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে আলোচনা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর নির্ভর করছে বলে স্পিকার জানিয়েছেন। বিষয়টিকে তিনি গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে লোকসভায় কেন্দ্রীয় সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, সরকার নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে আলোচনায় রাজি। তবে এ বিষয়ে কোন বিধির আওতায়, কবে এবং কতক্ষণ আলোচনা হবে, তা সর্বদলীয় বৈঠকে নির্ধারণের প্রস্তাব দেন তিনি।

যদিও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শুধু আলোচনা নয়, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও দাবি করা হয়। এ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হলে লোকসভায় হট্টগোল দেখা দেয়। পরে স্পিকার অধিবেশন দুপুর ২টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।