খালিস্তানি নেতা পান্নুন হত্যার ষড়যন্ত্রের দোষ স্বীকার করলেন ভারতীয় নাগরিক

সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০২:১৪ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাসরত খালিস্তানি আন্দোলনের নেতা মার্কিন নাগরিক গুরপতবন্ত সিং পান্নুনকে হত্যার ষড়যন্ত্রের দায় স্বীকার করেছেন ভারতের নাগরিক নিখিল গুপ্ত। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। এ ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক কূটনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ৫৪ বছর বয়সী নিখিল গুপ্ত গত বৃহস্পতিবার ভাড়াটে খুনি নিয়োগ, খুনের ষড়যন্ত্র ও অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন। ম্যানহাটানের এক ফেডারেল আদালতে তিনি এই স্বীকারোক্তি দেন।

আগামী ২৯ মে নিখিলের সাজা ঘোষণা করা হতে পারে। তাঁর সর্বোচ্চ ৪০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আদালত।


ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে যা ছিল
মার্কিন প্রসিকিউটরদের দাবি, নিখিল গুপ্ত ভারত সরকারের এক কর্মকর্তার নির্দেশে নিউইয়র্কভিত্তিক ওই শিখ রাজনৈতিক কর্মীকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। আদালতের নথিতে সরাসরি নাম না থাকলেও নিশানা যে গুরপতবন্ত সিং পান্নুন ছিলেন, তা স্পষ্ট। পান্নুন খালিস্তানপন্থী আন্দোলনের একজন পরিচিত মুখ।

তবে ভারত সরকার পান্নুনকে তাদের প্রধান সন্ত্রাসবিরোধী আইনের (ইউএপিএ) অধীনে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। তার সংগঠনকেও ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভারতের অভিযোগ, পান্নুন ‘খালিস্তান’ রাষ্ট্র গঠনের নামে সহিংসতা ও বিচ্ছিন্নতাবাদ উসকে দিচ্ছেন।

মার্কিন কৌঁসুলিদের অভিযোগ, ২০২৩ সালে নিখিল গুপ্তকে নিয়োগ করেছিলেন বিকাশ যাদব নামে এক ব্যক্তি। বিকাশ যাদব ভারতের মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়ে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। যাদবের নির্দেশেই নিখিল গুপ্ত যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পান্নুনকে হত্যা করতে ভাড়াটে খুনি খুঁজছিলেন।

তবে নিখিল গুপ্ত জানতেন না, তিনি যাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তাঁরা আসলে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হয়ে কাজ করছিলেন।

তদন্তকারীদের দাবি, পান্নুনকে হত্যার জন্য ১ লাখ মার্কিন ডলারের চুক্তি হয়েছিল। এই অর্থের মধ্যে ১৫ হাজার ডলার অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল।

নিখিল গুপ্ত শিখ নেতা পান্নুনের বাড়ির ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ যাবতীয় ব্যক্তিগত তথ্য পাচার করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত মার্কিন ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ) এবং এফবিআই (এফবিআই) এই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছিল।

মোদির সফর ও কানাডা প্রসঙ্গ
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, নিখিল গুপ্ত একজন ছদ্মবেশী কর্মকর্তাকে বলেছিলেন, ২০২৩ সালের জুনে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় যেন এই হত্যাকাণ্ড না ঘটানো হয়। তবে ওই মাসেই কানাডায় শিখ নেতা হরদীপ সিং নির্ঝর খুন হওয়ার পর নিখিল গুপ্ত জানিয়েছিলেন, ‘এখন আর অপেক্ষা করার দরকার নেই।’

২০২৩ সালের জুনে চেক প্রজাতন্ত্র থেকে নিখিল গুপ্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৪ সালে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পান্নুন হত্যাচেষ্টার এই মামলাটি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলেছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযোগ তোলার পর ভারত বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

ভারত সরকার তখন জানিয়েছিল, তারা অভিযোগটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে সরকারিভাবে এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিল।

নিখিল গুপ্তের দোষ স্বীকারের পর ভারত সরকার এখন কী প্রতিক্রিয়া জানায়, তার দিকেই সবার নজর।