‘ফিট’ থাকতে হাঁটা জরুরি

কোন বয়সে কতটা হাঁটা শরীরের জন্য উপকারী

সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ১২:২৯ পিএম

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরেও আসে নানা পরিবর্তন। পেশি, অস্থিসন্ধি ও হৃদ্‌যন্ত্রের সক্ষমতা বয়সভেদে ভিন্নভাবে কাজ করে। তাই সুস্থ থাকতে হাঁটাহাঁটির সময়ও নির্ধারণ করতে হবে বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা বুঝে।

চিকিৎসকদের মতে, শরীরচর্চার সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ উপায় হলো হাঁটা। যাঁরা নিয়মিত ভারী ব্যায়াম করেন না, তাঁরাও প্রতিদিন কিছুক্ষণ হাঁটলে সুস্থ থাকতে পারেন। হাঁটার ফলে শুধু ওজনই কমে না, শরীরের সার্বিক ব্যায়াম হয়। রক্ত সঞ্চালন ভালো থাকে, হৃদ্‌যন্ত্র সক্রিয় থাকে। তবে প্রশ্ন হলো—হাঁটবেন কতক্ষণ?

চিকিৎসকেরা বলছেন, ২০ বছর বয়সে শরীর যতটা সক্ষম থাকে, ৬০ বছরে এসে তা থাকে না। তাই হাঁটা যেহেতু এক ধরনের ব্যায়াম, বয়স অনুযায়ী শরীর কীভাবে সাড়া দিচ্ছে, তা বুঝে হাঁটার সময় ঠিক করা প্রয়োজন।

৫–১২ বছর

এই বয়সে শরীর দ্রুত বেড়ে ওঠে। পেশি ও হাড় শক্ত হয়। চিকিৎসকদের মতে, এই সময় দিনে মোটামুটি এক ঘণ্টা শরীরচর্চা প্রয়োজন। একটানা হাঁটা না হলেও দৌড়ঝাঁপ, খেলাধুলা বা শারীরিক কাজে অংশ নিলেই তা হাঁটার সমান উপকার দেয়।

১৩–১৯ বছর

কিশোর-কিশোরীদের প্রতিদিন ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা হাঁটা বা খেলাধুলা শরীর ও হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য ভালো। এই বয়সে নিয়মিত হাঁটা ও দৌড়ানো হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

২০–৪০ বছর

এই বয়সে শরীর তুলনামূলকভাবে সক্রিয় থাকলেও ৩৫-এর পর থেকে শক্তি কিছুটা কমতে শুরু করে। সুস্থ থাকতে চাইলে কম বয়স থেকেই হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, এই বয়সে দিনে ৩০–৪৫ মিনিট হাঁটা যথেষ্ট। একটানা না হাঁটতে পারলে দিনে কয়েক ভাগে ভাগ করেও হাঁটা যেতে পারে। মাঝে মাঝে হাঁটার গতি বাড়ালে ক্যালোরি খরচও বেশি হয়।

৫০ বছর

৫০ পেরোলে হাঁটার সময় কিছুটা কমানো যেতে পারে। ৩০–৪০ মিনিট হাঁটলেই উপকার মিলবে। কেউ চাইলে শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী ৪৫ মিনিটও হাঁটতে পারেন। তবে এই বয়সে অনেকের হাঁটু বা গোড়ালিতে ব্যথা শুরু হয়, তাই শরীর বুঝে হাঁটা জরুরি। হাঁটতে গিয়ে হাঁপ ধরে গেলে বা অস্বস্তি হলে বিরতি নিতে হবে।

ষাটোর্ধ্ব

৬০ বছরের পর শরীর কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। তবু দৈহিক ভারসাম্য বজায় রাখা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ধরে রাখতে নিয়মিত হাঁটা প্রয়োজন। এই বয়সে প্রতিদিন ২০–৩০ মিনিট হাঁটাই যথেষ্ট। একটানা হাঁটতে কষ্ট হলে বিরতি নিয়ে হাঁটা যেতে পারে।