কর বৃদ্ধিতেও কমছে না ধূমপান, সস্তা সিগারেট-ভেপে ঝুঁকছে তরুণরা

সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম

 দাম বাড়ার পর ধূমপান ত্যাগ না করে কম দামি সিগারেট ও ই-সিগারেটে ঝুঁকছে তরুণরা
রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা আব্দুল হালিম (৩৬)। তিনি চেইন স্মোকার।  প্রতিদিন এক প্যাকেট (২০ পিস) বেনসন সিগারেট প্রয়োজন হতো তার। তবে গত দুই বছর দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এক প্যাকেট থেকে নেমে এখন দিনে ৬-৭ শলাকা সিগারেট লাগে আব্দুল হালিমের। 

সতীন্দ্রনাথ (৪০), তিনিও চেইন স্মোকার। দৈনিক দেড় প্যাকেট (৩০ পিস) বেনসন লাগে তার। দাম বাড়ানোর ফলে ২০২২ সাল থেকে সিগারেটের কোম্পানি/ব্র্যান্ড পরিবর্তন করেছেন সতীন্দ্রনাথ, ধরেছেন গোল্ডলিফ। গোল্ডলিফেরও দাম বাড়ার পর এখন ওরিস সিগারেট খান তিনি। 

রাজধানীর আরেক নাগরিক সাব্বির আহমেদ (৩৮) বলেন, ‘আমি সিগারেট কম খাই। তবে দাম বাড়ানোর ফলে আরেকটু কমিয়েছি।’ 

বেসরকারি চাকরিজীবী রফিক মৃধা জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি ধূমপান করি না। তবে আমার কাছে মনে হয়, ধীরে ধীরে ১-২ টাকা করে দাম বাড়ানোর ফলে সয়ে যাচ্ছে। কিন্তু করারোপ করে বা দাম বাড়িয়ে ধূমপানে অনুৎসাহিত করতে হলে এক লাফে বেশি পরিমাণ দাম বাড়াতে হবে।’ 

রাজধানীর তোপখানা রোড এলাকায় চায়ের আড্ডায় ধূমপান করতে করতে এমন চিত্র তুলে ধরেন তারা।


এদিকে ‘ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট’ (ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট) কর্তৃক পরিচালিত ‘তামাক কর বৃদ্ধির ফলে তরুণ ধূমপায়ীদের ওপরে প্রভাব: প্রয়োজন শক্তিশালী তামাক কর নীতি’ শীর্ষক এক সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দেশে তামাকের ব্যবহার কমাতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় কর বৃদ্ধি করা হলেও তরুণ ধূমপায়ীদের বড় অংশই ধূমপান ছাড়ছে না। বরং কর বা দাম বাড়ার পর তারা ধূমপান ত্যাগ করার পরিবর্তে কম দামি ব্র্যান্ড বেছে নিচ্ছে কিংবা নিজেদের অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে ধূমপানের অভ্যাস ধরে রাখছে। একই সঙ্গে দেশের তরুণদের মধ্যে ই-সিগারেট বা ভেপ’র ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সিংহভাগ অর্থাৎ ৭৯ দশমিক ২৮ শতাংশ তরুণ ধূমপায়ীর আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এর মধ্যে ৭৬ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ তরুণের ধূমপানের পরিমাণ অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ৩ দশমিক ২ শতাংশ তরুণের ধূমপান উল্টো আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ধূমপানের এই অভ্যাস বজায় রাখতে তরুণরা মূলত তাদের ব্র্যান্ড পরিবর্তন করছেন

দেশের ৮টি বিভাগের ৩৯১ জন তরুণ ধূমপায়ীর (বয়স ১৮-৩০ বছর) ওপর পরিচালিত এই গবেষণায় তরুণদের ধূমপানের আচরণগত ও সামাজিক নানা দিক বিশ্লেষণ করা হয়।

দাম বাড়লেও ধূমপান ছাড়েননি ৭৯ শতাংশ তরুণ
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, তামাকের মূল্যবৃদ্ধির পর মাত্র ২০ দশমিক ৭২ শতাংশ তরুণ ধূমপানের পরিমাণ কমিয়েছেন। অন্যদিকে, সিংহভাগ অর্থাৎ ৭৯ দশমিক ২৮ শতাংশ তরুণ ধূমপায়ীর আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এর মধ্যে ৭৬ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ তরুণের ধূমপানের পরিমাণ অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ৩ দশমিক ২ শতাংশ তরুণের ধূমপান উল্টো আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ধূমপানের এই অভ্যাস বজায় রাখতে তরুণরা মূলত তাদের ব্র্যান্ড পরিবর্তন করছেন।


তামাকের কাঁচামাল আমদানিতে ৩০০ শতাংশ শুল্কের প্রস্তাব
গবেষণায় দেখা যায়, মূল্যবৃদ্ধির পর ২১ দশমিক ২৩ শতাংশ তরুণ সরাসরি কম দামি ব্র্যান্ডে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং ৫৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ তরুণ মাঝে-মধ্যে নতুন ও সস্তা ব্র্যান্ডের সিগারেট খাচ্ছেন।

প্রয়োজনীয় খরচ কমিয়েও কেনা হচ্ছে সিগারেট
ধূমপানের জন্য তরুণদের খরচের খাত পরিবর্তনের চিত্রটি অত্যন্ত ভয়াবহ। তামাক কর বৃদ্ধির পর ধূমপানের টাকা জোগাতে গিয়ে ১৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ তরুণ তাদের অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ কমিয়েছেন। এর মধ্যে ৭৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ তরুণ তাদের খাদ্য, যাতায়াত, যোগাযোগ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতের বাজেট কাটছাঁট করেন। এছাড়া ২৩ শতাংশ তরুণ তাদের পারিবারিক বাজেট থেকে এবং ১ দশমিক ২৪ শতাংশ তরুণ পড়ালেখার খরচ বা বিনোদন খাত থেকে টাকা বাঁচিয়ে সিগারেটের পেছনে ব্যয় করছেন। এ থেকে স্পষ্ট যে, সিগারেটের আসক্তি তরুণদের মৌলিক চাহিদার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

নতুন আতঙ্ক: ই-সিগারেট ও ভেপিং
গবেষণায় সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে ই-সিগারেটের ব্যবহার। ২০১৭ সালের গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (জিএটিএস) অনুযায়ী দেশে ই-সিগারেট ব্যবহারকারীর হার ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। কিন্তু ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের ২০২৬ সালের এই নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী তরুণদের মধ্যে ই-সিগারেট বা ভেপিং ব্যবহারকারীর হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ।


বিশেষজ্ঞদের মতে, তামাক কোম্পানিগুলোর চতুর বিপণন এবং সুগন্ধিযুক্ত উপাদানের আকর্ষণে তরুণরা দ্রুত এই মরণনেশার দিকে ঝুঁকছেন। এছাড়া ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ তরুণ সিগারেটের পাশাপাশি ধোঁয়াবিহীন তামাক (জর্দা/গুল) ব্যবহার করছেন।

আইনের ফাঁক ও রাজস্ব ফাঁকি
গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) অমান্য করা। ৭২ দশমিক ৩৮ শতাংশ তরুণ ধূমপায়ী জানিয়েছেন, তারা বাজারে নির্ধারিত এমআরপির চেয়ে বেশি দামে খুচরা সিগারেট কিনছেন। অন্যদিকে, ২৬ শতাংশ তরুণ এই সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য সম্পর্কে অবগতই নন। সরকারের কর কাঠামো জটিল হওয়ায় এবং খুচরা শলাকা বিক্রির সুযোগ থাকায় তামাক কোম্পানিগুলো প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে, যা প্রকারান্তরে সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

ধূমপান কমার প্রধান চালিকাশক্তি ‘স্বাস্থ্য সচেতনতা’
যে সামান্য অংশের (২০.৭২%) মধ্যে ধূমপান কমেছে, তাদের আচরণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ধূমপান হ্রাসের প্রধান কারণ সামাজিক বা অর্থনৈতিক চাপ নয়, বরং স্বাস্থ্য সচেতনতা। ৪১ দশমিক ৯৯ শতাংশ তরুণ স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা চিন্তা করে ধূমপানের পরিমাণ কমিয়েছেন। এছাড়া ফুল মুড বা আসক্তির অভাবের কারণে ১৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ, অর্থনৈতিক চাপের কারণে ১৪ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং পাবলিক প্লেসে ধূমপানের সুযোগ সীমিত হওয়ার কারণে ২৩ দশমিক ৮১ শতাংশ তরুণ ধূমপান কমিয়েছেন।


তামাক খাত থেকে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে সরকার
গবেষণার সুপারিশ ও করণীয়
গবেষণা প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তামাক নিয়ন্ত্রণে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা শক্তিশালী তামাক কর নীতি প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মূল সুপারিশগুলো হলো-

• সিগারেটের স্তরভিত্তিক কর কাঠামো বিলুপ্ত করে একটি সহজ ও শক্তিশালী সুনির্দিষ্ট কর ব্যবস্থা চালু করা।

• খুচরা শলাকা (সিঙ্গেল স্টিক) সিগারেট বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।

• বাজারে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য কঠোরভাবে মনিটরিং করা এবং আইন অমান্যকারী কোম্পানির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।

• দ্রুত আইন পাস করে বাংলাদেশে ই-সিগারেট বা ভেপিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।

• শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পাবলিক প্লেসে তামাকবিরোধী প্রচার ও নজরদারি জোরদার করা এবং ধূমপান ত্যাগ সহায়তা কেন্দ্র চালু করা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘সাধারণত কোনো পণ্যের দাম বাড়লে তার চাহিদা কমে। তবে তামাক বা সিগারেটের মতো আসক্তি তৈরি করা দ্রব্যের ক্ষেত্রে এই সমীকরণ কিছুটা ভিন্নভাবে কাজ করে।’

আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ করে উন্মুক্ত স্থান ও পাবলিক প্লেসে ধূমপান বন্ধে কঠোর হতে হবে। রাস্তাঘাট, পার্ক, রেস্টুরেন্ট কিংবা গণপরিবহনে যেন কেউ ধূমপান করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। ফলে ধূমপায়ীরা যেমন ঘরে-বাইরে সব জায়গায় ধূমপান করার সুযোগ হারাবে, তেমনি অধূমপায়ীরাও পরোক্ষ ধূমপানের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে।- ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ, ইমেরিটাস অধ্যাপক

তিনি বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, তামাক পণ্যের দাম যদি ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তবে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে তার চাহিদা কিন্তু ১০ শতাংশ কমে না, বরং কমে মাত্র ৬ শতাংশ। যেহেতু এটি একটি তীব্র আসক্তি সৃষ্টিকারী পণ্য, তাই সামর্থ্যবান ধূমপায়ীরা দাম বাড়লেও তা কেনা বজায় রাখেন। তবে মূল্যবৃদ্ধির ফলে ধূমপায়ীদের একটি বড় অংশই তাদের পূর্বের অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হন। দাম যখন তাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তখন কেউ কেউ ধূমপান একবারে ছেড়ে দেন, আবার কেউ কেউ দৈনিক সিগারেট খাওয়ার পরিমাণ বা ইনটেনসিটি কমিয়ে দেন। অর্থাৎ, কর ও মূল্যবৃদ্ধি নিশ্চিতভাবেই তামাকের ব্যবহার কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।’

অধ্যাপক ড. রুমানা হক বলেন, ‘তামাক নিয়ন্ত্রণে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং এর মূল হাতিয়ার হলো কর ব্যবস্থার সঠিক প্রয়োগ। যদি কর আরোপের মাধ্যমে তামাকের দাম তরুণদের ব্যয় করার সক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাওয়া যায়, তবে তারা শুরুতেই এই নেশার প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, পারিবারিক পরিবেশ কিংবা বন্ধুদের প্ররোচনায় (পিয়ার প্রেশার) অনেক তরুণ ধূমপান শুরু করে; কিন্তু একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত যদি তাদের এই অভ্যাস থেকে দূরে রাখা যায়, তবে পরে তাদের ধূমপায়ী হওয়ার আশঙ্কা প্রায় থাকে না বললেই চলে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আসক্তি থেকে বাঁচাতে এবং তামাকমুক্ত সমাজ গড়তে অত্যন্ত সুকৌশলে এমনভাবে কর আরোপ করা উচিত, যেন তামাকজাত পণ্য তরুণদের ক্রয়ক্ষমতার একদম বাইরে চলে যায়।’

ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, ‘তামাক ও ধূমপান নিরুৎসাহিত করতে প্রতি বছরই করারোপ করা হয় এবং দাম বাড়ানো হয়। কিন্তু কেবল কর বাড়িয়ে বা দাম বাড়িয়ে ধূমপানের এই আসক্তি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়, যার প্রমাণ পৃথিবীর অনেক দেশেই দেখা গেছে। যারা ধূমপানে আসক্ত, পণ্যের দাম বাড়লেও তারা সাধারণত তা খাওয়া বন্ধ করে না। মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে হয়তো অতি সামান্য কিছু সুফল মিলতে পারে, তবে তা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছায় না। তাই শুধু কর বা দাম বাড়ানোর ওপর নির্ভর না করে তামাকের ব্যবহার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজন অত্যন্ত কঠোর আইন এবং তার সঠিক প্রয়োগ। সরকার চাইলে এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নিতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ করে উন্মুক্ত স্থান ও পাবলিক প্লেসে ধূমপান বন্ধে কঠোর হতে হবে। রাস্তাঘাট, পার্ক, রেস্টুরেন্ট কিংবা গণপরিবহনে যেন কেউ ধূমপান করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। ফলে ধূমপায়ীরা যেমন ঘরে-বাইরে সব জায়গায় ধূমপান করার সুযোগ হারাবে, তেমনি অধূমপায়ীরাও পরোক্ষ ধূমপানের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে।’

‘তবে আইনের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় প্রয়োজন জনসচেতনতা। তামাক ও ধূমপানের ভয়াবহ কুফল সম্পর্কে গণমাধ্যমসহ সব মাধ্যমে ব্যাপক ও নিয়মিত প্রচার চালাতে হবে। জনগণকে সচেতন করতে পারলে এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে তবেই তামাকের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব।’ যোগ করেন অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ।

এই চিকিৎসকের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস উপলক্ষে সোমবার আয়োজিত এক সভায় তিনি বলেন, ‘তামাক একটি মারাত্মক আসক্তি এবং এটি মানুষের শরীরের এমন কোনো অঙ্গ নেই, যা আক্রান্ত করে না।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রচলিত আইনের ফাঁক গলে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। তামাকের থাবা থেকে সমাজ রক্ষা করতে আইন আরও শক্ত করা প্রয়োজন।’