শুধু প্রেম ও রোমান্সনির্ভর সিনেমা ও নাটক নির্মাণ এবং সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করা হয়েছে। জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুন। যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা রোধ এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করার লক্ষ্যেই এই রিট করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রিট আবেদনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বর্তমান চলচ্চিত্র ও নাটক শিল্পে প্রেম ও অতিরিক্ত রোমান্টিক কনটেন্টের অবাধ সম্প্রচার সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এসব কনটেন্টে পরকীয়া, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, ব্যভিচার ও ধর্ষণের মতো বিষয়কে স্বাভাবিক কিংবা মহিমান্বিত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
রিটে আরও বলা হয়েছে, এর ফলে যুবসমাজ এবং শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার থেকে বিচ্যুত হচ্ছে এবং সমাজের প্রচলিত নৈতিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
রিট পিটিশনে আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুন উল্লেখ করেন, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হলেও শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের মাধ্যমে যুক্তিসংগত বাধা-নিষেধ আরোপের সুযোগ রয়েছে। তার যুক্তি, জননৈতিকতা ধ্বংস করে এবং সামাজিক অপরাধে প্ররোচনা দেয় এমন কোনো কনটেন্ট অবাধে সম্প্রচারের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের সুরক্ষা প্রযোজ্য হতে পারে না।
এ ছাড়া সংবিধানের ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব বলেও রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিট আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩’-এর ৫(২) ও ৮(১) ধারা অনুযায়ী পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং এর পরিপন্থী কনটেন্টের অনুমোদন বাতিল করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিধিবদ্ধ দায়িত্ব।
অন্যদিকে, ‘কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬’-এর ১৯ ও ২০ ধারা অনুযায়ী শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং যুবসমাজের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে এমন সম্প্রচার নিষিদ্ধ করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
রিটে অভিযোগ করা হয়, সংশ্লিষ্ট বিবাদীরা তাদের আইনগত ও সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন না। এটিকে প্রশাসনিক অবহেলা হিসেবে উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।