কক্সবাজারের ১০ সরকারি স্কুলের ৯টিতে নেই প্রধান শিক্ষক

সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক প্রকাশিত: এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম

কক্সবাজার জেলার ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে নয়টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। এসব স্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কোনোরকমে ক্লাস ও প্রশাসনিক কাজ চালানো হচ্ছে।
সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদেও একই অবস্থা। টেকনাফ এজাহার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ছাড়া অন্য কোনো স্কুলে এই পদে কেউ নেই।
মঙ্গলবার জেলা শিক্ষা অফিসার গোলাম মোস্তফা (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, “প্রধান শিক্ষক না থাকলে সাধারণত সহকারী শিক্ষকই প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলান। কিন্তু যখন একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন তাকে দিনের বেশির ভাগ সময় অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। এতে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয়।”

জেলায় বিষয়ভিত্তিক সহকারী শিক্ষকেরও ঘাটতি আছে। কোথাও কোথাও খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালাতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩৩ জন করে শিক্ষক; শূন্য রয়েছে ১৬টি পদ।
রামু খিজারি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৪টি পদের বিপরীতে মাত্র পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত, শূন্য ১৯টি পদ।
মহেশখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৫টি পদের মধ্যে কর্মরত ছয়জন, শূন্য নয়টি।
কুতুবদিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৫টির মধ্যে কর্মরত পাঁচজন, শূন্য ১০টি।
উখিয়া বহুমুখী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৪টির মধ্যে কর্মরত ১০ জন, শূন্য চারটি।
চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৫টির মধ্যে কর্মরত ১০ জন, শূন্য ১৫টি এবং চকরিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৫টির মধ্যে কর্মরত ১১ জন, শূন্য ১৪টি।
টেকনাফ এজাহার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০টির মধ্যে কর্মরত চারজন, শূন্য ছয়টি পদ।
সব মিলিয়ে জেলায় ১৫৩টি সহকারী শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৯১ জন; শূন্য রয়েছে ৬২টি পদ। ৮২টি জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩৫ জন, শূন্য ৪৭টি।
তবে পেকুয়া জিএমসি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুমোদিত নয়টি পদের সবগুলোতেই শিক্ষক কর্মরত আছেন।
বিদ্যালয়গুলোর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আ. মান্নান বলেন, শূন্য পদ পূরণের জন্য সরকারের কাছে তথ্য পাঠানো হয়েছে। দ্রুত নিয়োগের বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
তিনি বলেন, “স্থানীয় প্রার্থীর সংখ্যা কম হওয়ায় বাইরের জেলার শিক্ষকরা নিয়োগ পেলেও কিছুদিন পর বদলি নিয়ে চলে যান, ফলে সংকট আরও বাড়ে।”
“স্থানীয় শিক্ষার্থীরা যদি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বেশি অংশ নিয়ে টিকতে পারে, তাহলে নিজ এলাকায় পোস্টিং দেওয়া সহজ হবে। নিজের এলাকায় থেকে নিজের এলাকার মানুষের সেবা করতে পারবে।”
কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাম মোহন সেন বলেন, “শিক্ষক সংখ্যা কম থাকায় একাধিক সেকশন সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষক দূরের জেলা থেকে এসে যোগ দেন, পরে বদলি নিয়ে চলে যান। এতে সংকট আরও বাড়ে।”
কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনুপম দাশ বলেন, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
“আমাদের ২০টি সেকশন। গণিতের ছয়জন শিক্ষক থাকার কথা, কিন্তু আছেন মাত্র দুইজন। বাধ্য হয়ে অন্য বিষয়ের শিক্ষক দিয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে।”
মহেশখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘‘শিক্ষক সংকট এতটাই তীব্র যে খণ্ডকালীন শিক্ষক ছাড়া বিদ্যালয় চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’’
তিনি বলেন, “খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ ছাড়া উপায় নেই, না হলে স্কুল বন্ধ করে দিতে হবে। আমরা চারজন খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে কোনোরকমে স্কুল চালাচ্ছি।”

সূত্র: বিডি নিউজ