হালিশহরে বিস্ফোরণের পর ৬ মৃত্যু

সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক প্রকাশিত: মার্চ ১৭, ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম

চট্টগ্রামের হালিশহরে ছয়তলা ভবনের একটি ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণের পর আগুন লাগার ঘটনায় গ্যাস লিকের প্রমাণ পায়নি তদন্ত কমিটি।
ওই ঘটনায় কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে হালিশহরের এইচ ব্লকের হালিমা মঞ্জিল নামের একটি ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণের পর আগুন লেগে যায়।
তাতে দগ্ধ হন একই পরিবারের মোট ৯ জন। ঢাকায় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক র্সাজারি ইন্সটিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের ছয়জনের মৃত্যু হয়।
ওই ঘটনার পর বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, গ্যাস লিক থেকে সেই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পরে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
কেজিডিসিএল ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সে সময় আলাদা তদন্ত কমিটি করা হয়। কেজিডিসিএল এর চার সদস্যের তদন্ত কমিটি সম্প্রতি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।
কমিটির প্রধান কেজিডিসিএল এর উত্তর বিতরণ বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. রফিক খান গণমাধ্যমকে লেন, “আমরা আমাদের প্রতিবেদন সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবরে জমা দিয়েছি। প্রতিবেদনে বিস্ফোরণ এবং প্রতিরোধে করণীয় উল্লেখ করা হয়েছে।”

তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে বলেন, “গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটার কোনো আলামত আমরা পাইনি।”

তিনি বলেন, ‘‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ওই বাসার রান্নাঘরের চুলা, চুলার নব, পেছনের চাবি, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপকরণ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

“গ্যাস লিক থেকে বেস্ফোরণ হলে রান্নাঘরের বিভিন্ন উপকরণ ক্ষতিগ্রস্ত হত। রান্নাঘরের জানালা ও ভেন্টিলেশন পরিস্থিতি দেখে আমরা মনে করছি, গ্যাস লিকেজ ঘটেনি।”

তাহলে কীভাবে সেখানে আগুন লাগল জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, “ওই বাসার ভাড়াটিয়া মোটর গ্যারেজের মালিক। তার বাসায় মোটরগাড়ির এসির কম্প্রেসর, গাড়ি রং করার কাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক ভর্তি ড্রাম, গাড়ির ব্যাটারি পাওয়া গেছে। এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ত্রুটির্পূণ বিদ্যুৎ সংযোগসহ রাসায়নিক পর্দাথ বা যন্ত্রাংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।”

ওই ঘটনায় দগ্ধ তিন শিশু এখনো ঢাকায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা হল, মারা যাওয়া গৃহকর্তা শাখাওয়াতের মেয়ে উম্মে আয়মান (১০), শাখাওয়াতের ছোট ভাই সামিরের দুই সন্তান ফঅরহান (৬) ও আয়েশা (৪)।