লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবু তাহের বলেছেন, দেশ থেকে দুর্নীতি নামক শব্দটি মুছে ফেলতে চাই।
একই সঙ্গে তিনি বৈষম্য, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের আয়োজনে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আবু তাহের বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা জনগণের সামনে আমাদের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরছি। আমরা বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে চাই। দুর্নীতি, বৈষম্য ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
বেকারত্ব নিরসনে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যুব সমাজকে প্রশিক্ষণের আওতায় এনে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। পাশাপাশি নারীদের জন্য আলাদা শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মাদকবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে জামায়াত প্রার্থী বলেন, মাদকের কারণে বহু পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
তাই এলাকা থেকে মাদক নির্মূলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় হাসপাতালের মানোন্নয়নের মাধ্যমে জনগণকে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচিত হলে প্রথম পর্যায়ে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে তিনি জানান, তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে রংপুরে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি অংশ নেন এবং নির্বাচিত হলে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের আশ্বাস পাওয়া গেছে।
নিজের পরিচয় নিয়ে অপপ্রচারের জবাবে আবু তাহের বলেন, তিনি লালমনিরহাটের সন্তান এবং দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকার মানুষের সঙ্গেই আছেন। তিনি কখনও চাঁদাবাজি বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলেও দাবি করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের দেশ। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জনসভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লালমনিরহাট জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি হাফেজ শাহ আলম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় স্কুল কার্যক্রম সম্পাদক প্রভাষক হারুন আর রশিদ, সাবেক জেলা সভাপতি ফজলুল হক শামিলসহ এনসিপি ও ১১ দলীয় জোটের জেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।